পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হইল, কলা প্রভাতেই দাদাকে গিয়া সে বলিবে যে এখন হইতে হাতখরচের জন্য মাসিক একশত টাকা করিয়া তাহার প্রয়োজন ; এবং গত পাঁচ বৎসরে তাহার ভাগে যে টাকাটা জমিয়াছে, তাহাও দাদার কাছে চাহিয়া লইয়া, গোলাপের নামে কোম্পানির কাগজ কিনিয়া আনিবে। তৃতীয় পরিচ্ছেদ পরদিন প্রাতে নিতাই তাহার পাঠের ঘরে বসিয়া বিষন্ন মুখে ভাবিতেছে, ওসব কথা দাদাকে গিয়া কি করিয়াই বা বলা যায়!—অথচ না বলিলেও উপায় নাই। গোলাপ বলিয়াছে সাত দিন সে অপেক্ষা করিবে, দেখিবে তাহার পরামশ মত কাযর্ণ হয় কি না : হয় উত্তম, —না হয়, ছেলেপিলে লইয়া সে বাপের বাড়ী চলিয়া যাইবে—এত কট সহ্য করা তাহার পোষাইবে না ! কিন্তু নিতাইকে আর দাদার খোঁজে যাইতে হইল না—অদ্বৈত নিজেই আসিয়া নিতাইয়ের ঘরে প্রবেশ করিল। - অদ্বৈত বলিল, “নিতাই, বিশেষ বাসত আছ কি ?” ”আজ্ঞে না।” “ভারি বিপদে পড়েছি নিতাই।” নিতাই শঙ্কিত হইয়া বলিল, "কেন দাদা. কি হয়েছে ?” অদ্বৈত একখানা চেয়ারে বসিয়া পড়িয়া বলিল, “ব্যবসাটি ত আর রাখা যায় না। কাঠের বাজার এমন মন্দা পড়েছে যে সে আর কত্তপ: নয় : ক বছর ত ক্ৰমাগত লালসনই দিচ্ছি। দেনায় দেনায় মাথার চল অবধি বিকিয়ে যাবার যো হয়েছে।” নিতাই ফ্যাল ফ্যাল করিয়া দাদার পানে চাহিয়া রহিল। মনে মনে ভাবিল—দাদার কাছে টাকা চাহিবার এই উপযুক্ত অবসর বটে ! অদ্বৈত বলিল, “মাড়োয়ারীর কাছে হসডিতে পাঁচ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলাম— সদে আসলে সাত হাজারে দাঁড়িয়েছে। শোধ করতে পারিনি—বেটা নালিশ করে দিয়েছে। ডিক্ৰী হলেই দোকানখানি ক্লেক করবে—নীলেমে চড়াবে—বাজারে ক্রেডিট নট হয়ে যাবে —সব্বনাশ হবে। তাই ভাই তোমাকে না জিজ্ঞাসা করেই, বাড়ীখানি বন্ধক রেখে দশ হাজার টাকা এক জায়গায় ধার নেবার বন্দোবস্ত করেছি। আপাততঃ ঐ টাকাগুলো ফেলে দিয়ে মান ইতজৎ ত বজায় রাখি,—পরে ক্ৰমে ক্ৰমে টাকা শোধ করে বাড়ীখানি উদ্ধার করে নিলেই হবে। এ বিষয়ে তুমি কি বল ?” অদ্বৈতের চক্ষ দইটি ছল ছল করিতে লাগিল। দেখিয়া নিতাইয়ের বড় দুঃখ হইল । সে বলিল, “তা, যা ভাল বোঝেন তাই করন দাদা ; আমি আর কি বলব ?” “তাহলে তোমার অমত নেই ? বাঁচালে ভাই। আমি জানি তুমি সে রকম নও, তাই সাহস করে তোমায় না জিজ্ঞাসা করেই বন্দোবস্ত করে ফেলেছি। দশ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। মাড়োয়ারীর সাত হাজার—আরও খুচরো-খানি হাজার তিনেক টাকা দেনা আছে —সেগুলো সব ঐ টাকা থেকে শোধ করে, নিশ্চিন্ত হতে পারি। তুমি কি আজ লাইব্রেরিতে বাবে ?” “আজ্ঞে হ্যাঁ।” “তুমি বারোটার সময় যাও ত ই আজ একটু সকাল সকাল খেয়ে নিও। এগারেটার সময় আমার সঙ্গে গাড়ীতেই বেরিও । এটর্ণি আপিসে গিয়ে বন্ধকী দলিলখানাতে সই করে, অমনি সেই গাড়ীতেই রেজিষ্ট্ৰী আপিসে গিয়ে দলিলখানা রেজিষ্ট্ৰী করাতে হবে। বোধ হয় একটা দেড়টার মধ্যেই সব কাজ হয়ে ষাবে। আমি বরং তোমায় লাইব্রেরিতে ' নামিয়ে দিয়ে আসব।” ᏬᎼ8