পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বড়বধ নিজ স্বামী তারাপ্রসাদের কাছে কাঁদিয়া পড়িলেন—“ওগো ছেলেকে বন্দি দেখাও গো, নইলে আমার ছেলে বাঁচবে না। ও রাক্ক সি ডাইনি আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারবে না। ওর কি সাধ্য!” তারাপ্রসাদ অত্যন্ত পিতৃভক্ত। পিতার বিশ্বাস, মাতার বিধান, এ সমস্ত তিনি বেদের সাত মান্য করেন। তিনি সন্ত্রীকে বলিলেন—“খবরদার, ও কথা বোলো না, ছেলের অকল্যাণ হবে। মা যা করবেন তাই হবে।” কিন্তু বড়বধর প্রতিদিনকার কাকুতি মিনতি ও কুন্দনে কত্তা এক দিন গলবস্ত্র হইয়া দয়াকে জিজ্ঞাসা করিলেন—“মা, খোকার যে ব্যারাম হয়েছে, তাতে বৈদ্য দেখাবার কোন প্রয়োজন আছে কি ?” দয়াময়ী বলিল—“না, আমিই ওকে ভাল করে দেব।” কালীকিঙকর নিশ্চিত হইলেন। তারাপ্রসাদও নিশ্চিমত হইলেন। খোকার মা একদিন একটি বিশ্ববস্ত ঝিকে কবিরাজের কাছে পাঠাইয়া দিলেন-যাহা কিছু রোগের বিবরণ সব বলিয়া দিলেন। ঔষধ চাই। কবিরাজ মহাশয় এ প্রস্তাব শনিয়া দন্তে জিহবা দংশন করিয়া বলিলেন--"মাঠাকরণকে বলিস, যখন স্বয়ং শক্তি বলেছেন তিনিই থোকাকে আরোগ্য করে দেবেন, তখন আমি ওষুধের ব্যবস্থা করে অপরাধী হতে পারব না।" যাহার সঙ্গে দেখা হয়, তাহাকেই খোকার মা কাঁদিয়া বলেন—“ওগো কিছু ওষুধ বলে দাও, আমার ছেলে বাঁচে না।” সকলেই বলে—“ওমা ও কথা বোলো না, তোমার ভাবনা কি ? তোমার ঘরে সঞ্চয়ং আদ্যশক্তি বিরাজ করছেন।” খোকার ব্যারাম ক্রমেই বাড়িয়া উঠিল। দয়া বলিল, “খোকাকে এনে আমার কোলে দাও।” খোকাকে কোলে করিয়া দয়া সমস্ত দিন বসিয়া রহিল। খোকা অনেকটা ভাল রহিল । কিন্তু রাত্রে আবার খোকার ব্যারাম বন্ধি হইল। দয়াময়ী একান্ত মনে একান্ত প্রাণে কত করিয়া খোকাকে আশীববাদ করিল, খোকার গায়ে হাত বলাইল, কিন্তু কিছুতেই খোকা বাঁচিল না। যখন থোকার মৃত্যুসংবাদ বাড়ীতে প্রচারিত হইল তখন তারাপ্রসাদ অধীর হইয় ছটিয়া আসিল—দয়াময়ীকে বলিল—“রাক্ষসি, খোকাকে নিলি ? কিছুতেই মায়া ত্যাগ করতে পারলি নে ?” খোকার মা প্রথমে শোকে অত্যন্ত বিহল হইল। যখন কতকটা সদস্থ হইল তখন পূয়াময়ীকে যা মুখে আসিল তাই বলিয়া গালি দিল। বলিল—“ও দেবী কোথায় ? ও ডাইনি। দেবী কখন ছেলে খায় ?” কালীকিংকর ছল ছল নেরে দয়ার পানে চাহিয়া বললেন—“মা, খোকাকে ফিরিয়ে দে। এখনও দেহ নকট হয়নি। ফিরিয়ে দে মা ফিরিয়ে দে।” দয়াময়ী ঝর কর করিয়া কাঁদিতে লাগিল। মনে মনে যমরাজকে উদ্দেশ করিয়া আজ্ঞা করিল, এখনি খোকার আত্মা খোকার শরীরে ফিরাইয়া দেওয়া হউক। তাহাতে যখন হইল না, তখন মিনতি করিল –আদ্যাশক্তির মিনতিতেও যমরাজা খোকার প্রাণ ফিরাইয়া দিলেন না। তখন নিজের দেবীত্বে দয়ার অবিশ্বাস জন্মিল। , আজ তাহার পজা ইত্যাদি প্রায় বন্ধ বলিলেই হয়। সমস্ত দিন কেহ তাহার কাছে আসিল না। দয়া একাকিনী বসিয়া সারাদিন চিন্তা করিল। সন্ধা হইল। আরতির সময় উপস্থিত। যেমন তেমন করিয়া আরতি হইল। পরদিন কালীকিংকর উঠিয়া পাজার ঘরে গিয়া দেখিলেন, সববনাশ!—পরিধেয় বসন্ত্র আজর মত করিয়া পাকাইয়া, কড়িকাঠে লাগাইয়া দেবী আত্মহত্যা করিয়াছেন। ধীর, ১৩o৬ ] - 切-金