পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দত্তজা জিজ্ঞাসা করিলেন, “কেন কেন ? নদীপরেওয়ালারা কি করেছে ?” “দলছি ! কুলবর জন্যেই এসেছি। এই রোদরে মশাই এক ক্লোশ পথ ছটতে ছুটতে এসেছি। গলাটা শুকিয়ে গেছে, মুখ দিয়ে কথা বেরাচ্চে না। এক ঘটি জল—” দত্তজার আদেশে অবিলবে এক ঘড়া জল এবং একটি ঘটি আসিল। রামচরণ উঠিয়া রোয়কের প্রান্ত বসিয়া, সেই জলে হাত পা মুখ ধুইয়া ফেলিল; কিঞ্চিৎ প নও করিল। তার পর হাত মখ মুছিতে মাছিতে নিকটে আসিয়া বসিয়া, গভীর বিষাদে মাথাটি বাঁকাইয়া রহিল। হীর দত্ত বাললেন, “এবার বল কি হয়েছে, আর দধে মেরো না বাপ !” রামচরণ বলিল, “কি হয়েছে ? যা হবার নয় তাই হয়েছে। বড় বড় সহরে যা হয় না, নদীপরে তাই হয়েছে। এ সব পাড়াগাঁয়ে কেউ কখনও যা বনেও ভাবেনি, তাই হয়েছে । তার হলস্কুল বসিয়েছে।” তিনজনেই সমবেত সত্বরে জিজ্ঞাসা করিলেন, “সে কি আবার ? হস্কুল কি ?” রামচরণ বলিল, “আরে ছাই আমিই কি জানতাম আগে হসন্ধুল কার নাম : আজ না শনলাম! ইঞ্জিরি পড়ার পাঠশালাকে হস্কুল বলে।” দত্তজ বলিলেন, “ও৭-ইস্কুল খালেছে বুঝি “ “হ্যাঁ গো হ্যাঁ-তই খুলেছে। একজন ম্যাটার নিয়ে এসেছে। ইঞ্জিরি পাঠশালের গরমশায়কে নাকি ম্যাটর বলে। দশ ঘোষের চণ্ডীমণ্ডপে হমকুল বসেছে। সবচক্ষে দেখে এলাম ম্যাস্টার বসে দশ বার্যেজন ছেলেকে ইঞ্জিরি পড়াচ্চে ” হীর দত্ত একটি দীঘ নিঃশ্বাস ফেলিয়া, গালে হাত দিয়া বসিয়া ভাবিতে লাগিলেন। কিয়ৎক্ষণ পরে জিজ্ঞাসা করিলেন, “মাস্টার কোথা থেকে এনেছে তা কিছু শনলে ?” “সব খবরই নিয়ে এসেছি । বন্ধমান থেকে এনেছে। রামনের ছেলে-হারাণ চক্লবত্তীর্ণ। পনেরো টকা মইনে, বাসা, খোরাক। সব খবরই নিয়ে এসেছি।” বাহিরে এই সময়ে একটা কোলাহল শুনা গেল। পরক্ষণেই দেখা গেল, পিলপিল করিয়া লোক সদর দরজা দিয়া প্রবেশ করিতেছে । রামচরণ পথে আসিতে আসিতে, নন্দীপরের হস্তে গোঁসাইগঞ্জের এই অভূতপবে পরাভব সংবাদ প্রচার করিয়া আসিয়াছিল। সকলে আসিয়া চীৎকার করিয়া নানা ছন্দে বলিতে লাগিল- “এ কি সব্বনাশ হল ! নন্দীপরের হাতে এই অপমান! আমাদের ইস্কুল খেলবার এখন কি উপায় হবে ?” হীর দত্ত সেই রোয়কের বারান্দায় দাঁড়াইয়া উঠিয়া, হাত নাড়িয়া বলিতে লাগিলেন-- “ভাই সকল! তোমরা কি মনে করেছ, তিনপরে্ষ পরে আজ গোঁসাইগঞ্জ নদীপরের কাছে হটে যাবে ? কখনই না। এ দেহে প্রাণ থাকতে নয়। আমরাও ইস্কুল খুলবো। ওরা যা কী ইস্কুল খুলেছে, আমরা তার চতুগণ ভাল ইস্কুল খলবো। তোমরা শান্ত হয়ে ঘরে যাও। আজই খাওয়াদাওয়া করে আমি বেরুচ্চি। কলকাতা যাবার রেল খুলেছে আর ত কোনও ভাবনা নেই। আমি কলকাতায় গিয়ে ওদের চেয়েও ভাল মাস্টার নিয়ে আসবো। ওরা ১৫ দিয়ে মাস্টার এনেছে ? আমরা ২৫ মাইনে দেবো। ওদের মাস্টারকে পড়াতে পারে এমন মাল্টার আমি নিরে আসবো। আজ থেকে এক হপুর মধ্যে, আমার এই চন্ডীমণ্ডপে ইস্কুল বসাবো বসাবো বসাবো-তিন সত্যি করলাম। এখন যাও তোমরা বাড়ী যাও, সনানাহার করগে।” “জয় গোঁসাইগঞ্জের জয়! জয় হীর দত্তের জয় ”—সোল্লাসে চীৎকার করিতে করতে তখন সেই জনতা প্রস্থ করিল। 'দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ কলকাতা হইতে মান্টার নিযুক্ত করিয়া হাঁর দত্ত চতুর্থ দিবসে গ্রামে ফিরিয়া আসিলেন। মাস্টার মহাশয়ের নাম ব্ৰজগোপাল মিত্র । বয়স ত্রিশ বৎসর, খৰবাকার কৃষকায় ব্যক্তি, বড় মিল্টভাষী। ইংরাজি বলিতে কহিতে লিখিতে পড়িতে নাকি ভারি ওস্তাদ । ইংরাজিটা 9 రి o