পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভিখারী সাহেব প্রথম পরিচ্ছেদ তাড়াতাড়ি করিয়া, গাড়োয়ানকে ডবল বখসিসের প্রলোভন দেখাইয়া স্টেশনেও পৌছিলাম, আর ট্রেনখানিও ছাড়িয়া দিল। মহা মস্কিল। সন্ধ্যার পর্বে আর গাড়ী নাই । ঘড়ি খলিয়া দেখিলাম একটা বাজিয়া গিয়াছে। কলিয়ারিতে ফিরিবার এমন যে কিছু তাড়াতাড়ি ছিল তাহা নহে, তবে এখন হইতে সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রেণের প্রতীক্ষায় এই দীর্ঘ কালটা যে কাটাইব তাহার কিছু সম্মবল ছিল না। গাড়ী হইতে নামিলাম। ঘোড়া দইটা তখনও হাঁফাইতেছে। তাহদের গাত্র বহিয়া টস টস করিয়া ঘনমজিল মাটিতে পড়িতেছে। গাড়োয়ান বেচারার মুখখানি ম্নিয়মাণ; সেলাম করিয়া বলিল—“হজর, আমার কিছু অপরাধ নাই। জানোয়ার দটাকে মারিয়া ফেলিয়াছি বলিলেই হয়।”—কথাটা মিথ্যা নহে। আমি তাহাকে প্রতিশ্রত দ্বিগণ পুরস্কারই দিলাম। তখন তাহার মখে হাসি ফটিল। আমার চাকর হরি তেওয়ারি বলিল—“বাব । ওয়েটিং রমে জিনিষপত্রগলা লইয়া যাই ?” নিকটে একটা প্রকাণ্ড সচ্ছায় নিমগাছ, ফর ফর করিয়া প্রাণ-কাড়িয়া-নেওয়: চৈতী হাওয়া বহিতেছে—গাছটার তলদেশের প্রতি আমি কিয়ৎক্ষণ লবধনেত্ৰে চাহিয়া রহিলাম। চাকরটা অনেককাল আমার সঙ্গে ঘরিয়াছে—আমার মুখ দেখিয়া আমার মনের ভাব বুঝিতে পারে। বলিল—“হকুম হয় ত এই গাছের তলাতেই বিছানা বিছাই।” আমি বলিলাম—“তাই বিছাও, এইখানেই একটু আরাম করি।” বক্ষতলে সকোমল হরিবণ শতপরাজির উপর একখানি কবল বিছাইয়া, তাহার উপর শতরঞ্চ বিছাইয়া, একটি তাকিয়া রাখিয়া, হরি তেওয়ারি আমার বিছানা করিয়া দিল । আমি জতা ছাড়িয়া কোটটা খলিয়া রাখিয়া, একটা সদীঘ আঃ শব্দ উচ্চারণপবেক তাকিয়া হেলান দিলাম। তেওয়ারি গড়গড়িতে জল ফিরাইয়া তামাক সাজিতে গেল । - তেওয়ারি চক্ষর অন্তরাল হইবামাত্র একটি দীঘ"াকৃতি বন্ধ ইংরাজ আসিয়া আমার বিছানার কাছে দাঁড়াইল। টপি খলিয়া ইংরাজিতে বলিল—“যীশ, খীটের নামে আমাকে একটি পয়সা দিন।” লোকটার পরিচ্ছদ একট েমলাবান কিন্তু খুব পর্বতন সিলক হ্যাট; তাহার উপরকার কাপড়টিতে এত ধলো জমিয়াছে যে তাহার আদিম কৃষ্ণবণ এখন ধসরবণ ধারণ করিয়াছে। তাহা যে সিলক তাহাও কন্টে ঠাহর হয়। বস্ত্রাদি, তাহাও তদবসথ । কলার, নেকটাই—অনুষ্ঠানের ক্রটি কিছুই ছিল না। মাথার চলগলা বড় বড়,—বাতাসে এদিক ওদিক উড়িতেছে। বয়স ষটি বৎসরের কম হইবে না। লোকটাকে দেখিয়া হঠাৎ বিনা কারণে আমার মনে ক্ৰমন একটা কৌতুহল জাগিয়া উঠিল। ভাবিলাম ইহার অন্তরলে নিশ্চয়ই একটা ভগ্নজীবনের সকরণ ইতিহাস আছে। সেই ইতিহাস শ্রবণ করিবার জন্য আমার মন ব্যগ্র হইয়া উঠিল । ভাবিলাম যতক্ষণ নিদ্ৰা না আসে ততক্ষণ ইহাকে লইয়াই সময় যাপন করি। তাহাকে বলিলাম--"এইখানে বস।” কি আপদ! আমার বিছানায় বসিতে চায়। যদিও আমি ব্রাহ্ম মানুষ, সপশদোষ মানি না, তথাপি ঐ একটা জীব - ভূতকে কি বিছানায় বসিতে দিতে পারি? তাড়াতাড়ি বলিলাম—“এই নীচে ঘাসেই বস না।” লোকটা গবিবত ভাবে বলিল,-“মহাশয়! আমার কাপড় ময়লা হইয়া যাইবে যে ” শুনিয়া নাসি পাইল। ভারি পরিচকাম কাপড় কিনা! আমার বিছানার তলা হইতে কবলখানা bi- না বাহির করিয়া দিলাম। লোকটা পা দুটা ছড়াইয়া বসিল। আমাকে জিজ্ঞাসা করিল—“চক্ৰট খাইবে " আমি বলিলাম—“না, তুমি খাও।” OSථ