পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লোকটা চারটি বাহির করিল। অতি উৎকট হাভানা জাতীয় চরােট। বড় বিসিমত হইলাম। এই ভিখারী এত মূল্যবান হাভানা কোথায় পাইল ? কাহারও চরি টুরি করিয়া তানে নাই ত ? ইত্যবসরে আমার চাকর গড়গড়ি ভরিয়া উপস্থিত হইল। আমিও তাম্রকট সেবন আরম্ভ করিলাম। তেওয়ারি অপ্রসন্ন কুটিল দটিতে ভিখারী সাহেবের পানে চাহিয়া রহিল। - - উভয়ে ধুমপান করিতে করিতে কথাবাত্তা আরম্ভ হইতে লাগিল। নাম বলিল— হেনরি। আমি বলিলাম—“ও ত গেল তোমার ক্লিশচীন নেম, তোমার সরনেম কি?” সে বলিল—“আমার সরনেম নাই।" জীবনের ইতিহাস কিছই বলিতে চাহে না । শুধ বলে— “আমি অতি দরিদ্র, খাইতে পাই না, পথে পথে ঘরিয়া বেড়াই।” জিজ্ঞাসা করিলাম-- “তোমার আর কেহ আছে ?” সে বলিল—“আমার মা বাপ কেহই নাই, আমি একটি অনাথ বালক।” বালকই বটে! আবার জিজ্ঞাসা করলাম—“সী, পত্র পরিবার ?” সে বলিল আমার মনে একটা মৎলব আসিল। ভাবিলাম অনেক বাঙ্গালীই ত সাহেব হইয়াছে, একটা সাহেবকে বাঙ্গালী করিয়া দেখিলে হয় । ইহাকে আমার কয়লার খনিতে লইয়া গিয়া কুলীর সন্দার করিব, ভাত ডাল খাওয়াইব, ধতি চাদর পরাইয়া রাখিব। যদি রাজি হয়, তবে এ একটা অভিনব দর্শনীয় পদার্থ হইবে—ইহাকে কুড়াইয়া লইয়া যাই। প্রস্তাব করিলাম। হেনরি মহা উৎসাহের সহিত সন্মতি জানাইল । وهي "سام ইয়েস বাবা, আমি বাঙ্গালী হইব। আমাদের জাতি বাঙ্গালীকে অত্যন্ত ঘৃণা করে। আমি স্বয়ং বাঙ্গালী হইয়া আমাদের সবজাতির পাপের কতকটা প্রায়শিচত্ত করিব। জগৎকে দেখাইব যে বাঙ্গালীরা হেয় পদার্থী নহে।” আমি মনে মনে হাসিলাম । ভাবিলাম জগতের কণে যদি তোমার বাঙ্গালী হওয়ার সমাচার পৌছে তবে জগৎ বলবে, তুমি অন্নদায়ে এ কাজ করিয়াছ। —“তবে চল । সন্ধ্যার সময় গাড়ী। কোথাও তোমার কিছু জিনিষপত্র থাকে যদি লইয়া আইস।" সে বলিল—“বাবা, আমার আর কোথাও কিছু নাই। একটা কথা জিজ্ঞাসা করি, তোমাদের সেখানে ভাল হাভানা পাওয়া যায় ত ?” আমি বলিলাম—"এত খবর রাখি না, বোধ হয় পাওয়া যায় না।” হেনরি মুখখনি গভীর করিয়া বলিল-“বাবা! তবে আমার যাওয়া হইল না।" অদভুত লোক ! এ দিকে অন্ন যাটে না, অথচ হাভানা চুরুটটি চাই। পথে পথে ভিক্ষা . করিয়া বেড়াইতেছে, আশ্রয় দিতে চাহিলাম, অন্নের সংস্থান করিয়া দিতে চাহিলাম, কিন্তু এক হাভানা চুরাটের জন্য সকল ত্যাগ করতে প্রস্তুত । কিন্তু এই অদ্ভুতত্বের জন্যই তাহাকে সংগ্ৰহ করিবার নেশা আমার বাড়িয়া উঠিল । বললাম, “তুমি যদি চাও ত আমি কলিকাতা হইতে হাভানা আনাইয়া দিতে পারিব। প্রতি সপ্তাহে একজন করিয়া আমার চাপরাসি কলিকাতায় যায়।” শনিয়া হেনরি মহা খাসী। আমাকে অগণ্য ধন্যবাদ দিতে লাগিল। বলিল—“বাব, আমার একটি হাভানা তোমাকে খাইয়া দেখিতেই হইবে।” আমি চুরুট বড় একটা খাই না, কিন্তু হেনরি নাছোড়বান্দা। লইলাম একটি। দিব্য জিনিস। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ হেনরি খুব কাজের লোক বটে। আমার বহিরের ঘরে তাহাকে স্থান দিয়াছি। বাঙ্গালী সাজাইয়াছি। বাঙ্গালীর বেশ তাহার অঙ্গে এমন মানায় ! সম্প্রতি আমার একটি ইংরাজ বন্ধ আমার সঙ্গে দেখা করিতে আসিয়াছিলেন। তিনি হেনরিকে দেখিয়া হেনরির ইতিহাস শুনিয়া অত্যন্ত আমোদ পাইয়াছেন। তাহার একখানি ফোটোগ্রাফ তুলিয়া "ট্র্যাণ্ড br●