পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ম্যাগাজিন"এর “কিউরিয়াসিটি কলম”এর জন্য পাঠাইয়া দিয়াছেন। নিমেন লিখিয়া দিয়াছেন—“বাঙ্গালী পরিচ্ছদে ইংরাজ।” হেনরির একট সংক্ষিপ্ত ইতিহাসও লিখিয়া দিয়াছেন। ছবিটি ট্র্যান্ডে প্রকাশিত হইলে অনেক সাহেব বাঙ্গালী পরিচ্ছদের পক্ষপাতী হইয়া পড়িতে পারেন। খাইয়া-দাইয়া এখন হেনরির চেহারায় অনেক পরিবত্তন হইয়াছে। বাসতবিক সেই তেজোদীপ্ত ইংরাজ-মাত্ত্বি বাঙ্গালীর পরিচ্ছদে এক অভিনব অপব্ব দশ্য। কুলীগ লো তাহার এমনি বশীভূত হইয়াছে । আমাকে যদি দিনে দইবার সেলাম করে ত তাহাকে দশবার করে। শধে হেনরি আমার কুলী খাটাইয়া নিরস্ত নহে!—আমার বড় মেয়ে গিরিবালাকে ইংরাজি পড়াইতে আরম্ভ করিয়াছে। মেয়েটাও হেনরির এমন নেওটো হইয়াছে! এই মাসখানেকের মধ্যেই তাহাকে এক রকম চলনসই বাঙ্গালা শিখাইয়া লইয়াছে। তাহাকে সে বলিত হেনরি কাকা। প্রথম দিন শনিয়া ত আমার হাড় জলিয়া গেল। গিরিকে (গহিণীর সাক্ষাতে) বললাম, “কাকা কি রে রাক্কসি ? ও তোর বাবার চেয়ে বয়সে ছোট না কি ? জ্যেঠা বল। নয় ত মামা বল।”--তাহার পর হইতে গিরি তাহাকে হেনরি দাদা বলিয়া ডাকিত। * জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষে গিরিবালা জনরে পড়িল। দই তিন দিন সকালবেল ভিজিয়া তিজিয়া ফল তুলিয়াছিল। আমি ভোরে চা খাইয়া আফিসে চলিয়া যাইতাম। আমার সতীর কথা সে গ্রাহ্য করিত না। এই অত্যাচারের ফলস্বরপ তাহার সন্দিজিরের মত হইল। প্রথমে আমরা ততটা খেয়াল করি নাই:-অমন জর ত ছেলেপিলের মাঝে মাঝে হইয়া থাকে। দইটা উপবাস দিলেই সারিয়া যাইবে। পাঁচ ছয় দিনে জরটা বিকারে দাঁড়াইল। অবস্থা উত্তরোত্তর সঙ্কটাপন্ন হইতে লাগিল । প্রথমে আমাদের কলিয়ারির নেটিভ ডাক্তারবাহটি চিকিৎসা করিতেছিলেন, কিন্তু ক্ৰমে লক্ষণ ভাল নয় দেখিয়া রাণীগঞ্জ হইতে এসিট্যান্ট সাতজনকে প্রত্যহ একুবার করিয়া আনাইবার বন্দোবস্ত করিলাম। হেনরি তাহার ছাত্রীর মাথার শিয়রে বসিয়া খুব সেবাটা করিতে লাগিল। আমরা বাপ মায়ে বা সেবা না করিলাম, তা সে হেনরি করিল। তাহার আহার নিদ্রা বন্ধ হইল বলিলেই হয়। ঔষধ পথ্যাদির সম্বন্ধে আমাদের তিলমাত্র ত্রটি হইলে হেনরি রাগিয়া অনথপিাত করিত। মাঝে একদিন এমন অবস্থা হইল যে, বঝি রাত্রি আর কাটে না। আমার স্ত্রী ত মেয়ের রোগশয্যা ছাড়িয়া ও ঘরের মেঝের উপর লটাইয়া পড়িয়া কাঁদিতে লাগিলেন। আমারও হাত পা অবশ হইয়া আসিতে লাগিল। রাণীগঞ্জের ডাক্তারঝবটি অন্য দিন সন্ধ্যার গাড়ীতে ফিরিয়া ষাইতেন, সে দিন আর যাইতে পারেন নাই। ঘণ্টায় ঘণ্টায় ঔষধ পরিবত্তন হইতে লাগিল। যখন রাত্রি দইটা হইবে তখন ডাক্তারবাব নতন একটা ঔষধ প্রস্তুত করতে লাগিলেন। যখন যে ঔষধ দেওয়া হইত হেনরি সাবধানতার সহিত সমস্ত দেখিত। প্রশন করিয়া করিয়া ডাক্তারকে বিরক্ত করিয়া তুলিত। এবার বলিল, “Now, I won't allow that”—অর্থাৎ ও ঔষধ আমি দিতে দিব না ; ডাক্তার চটিয়া গেলেন। বলিলেন —“মহাশয়, এ ব্যক্তি এমন করিয়া বাধা দেয় কেন ?” হেনরি লোকটা এ দিকে ভাল, কিন্তু মাঝে মাঝে ভারি খামখেয়ালি করে। অন্য সময় তাহাতে বরং আমোদ পাইয়াছি, কিন্তু এখন ভারি বিরক্তি স্পে হইতে লাগিল। হেনরি ডাক্তারকে টপিড ফলে বলিয়া গালি দিল। আমাকে বলিল—“এ কিছ জানে না, ইহাকে তাড়াইয়া দাও। এখনি রোগীকে মারিয়া ফেলিয়াছিল আর কি!” ডাক্তার .বলিলেন—“যদি আমন করিয়া আমার চিকিৎসা কায্যে বাধা দিবে তবে আমি চিকিৎসা ত্যাগ করিয়া যাইব ।”—বলিয়া তিনি উঠিয়া দাঁড়াইলেন। এই ব্যাপারে আমাদের সন্ত্রীপরিষের মাথায় যেন বজ্রাঘাত হইল। হেনরিকে বলিলাম