পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


থব অদির বাড়িয়া গিয়াছে। তখন হইতে স্বরের ছেলের মতই অন্তঃপরেও তাহার অবাৰ গতিবিধি। গহিণীকে গিয়া বলিল, “মা, ললিত ছেলেটির বিষয় কত্তা কি আপনাকে কছা বলেছেন ? আচ্ছা, ওর সঙ্গে মণিমালার বিয়ে দিলে কেমন হয় ?” “হ্যাঁ, বলেছেন। দেখতে শনতে, লেখাপড়ায় ছেলেটি ত ভালই শনছি। তোমাকেই ত্ব ঘটকালির ভার দিয়েছেন বললেন।"

  • আজ্ঞে হ্যাঁ ৷” “তার সঙ্গে কথাবাত্ত কিচ্ছ কয়েছ নাকি ?” “লা, এখনও কইনি। তার আগে একটা গোড়া বাঁধতে হবে মন। এক কাষ করুন।” “কি, বল।” - “ললিত আজ এলে, তাকে একবার মণিমালাকে দেখিয়ে দিন। বেশী কিছু সাজগোজের করে দেবেন না, বুঝেছেন—মেয়ে দেখাচ্ছে”—এটা তার মনে যেন সন্দেহ না হয়। একখানা কালাপেড়ে দেশী শাড়ী, আর ওরই মধ্যে সশ্রী একটা জ্যাকেট পরিয়ে দেবেন, কপালে একটা কাঁচপোকার টিপ, গহনা-টহনা বেশী নয়। মাথে পাউডার-টাউডার যদি দিতে হয় ত অতি যৎসামান্য, বুঝেছেন ? আমরা যখন খেতে বসব, মণি কত্তার কাছে বসে তাঁকে হাওয়া করবে। আজকালকার ছেলে কিনা, দেশকে আগে। তার পর সবিশ্বে মত অামি কথা পাড়ব-২া যা করতে হয় করব।”

গহিণী সম্মত হইলেন। ললিত আহারাদির পর গহিণীকে প্রণাম করিয়া বসিল, “কাকীমা, এখন জাঙ্গি তা হলে ?” গহিণী বলিলেন, “এখনই চললে বাবা ? এই দপুর রোদরে না গেলে কি হত না ? —এইখানেই এখন একটা বিশ্রাম করনা, বিছানা করে দিক ৷” ললিত বলিল, “না কাকীমা, আমার অনেক কায রয়েছে-এখন বাসাতেই যেতে হবে । ংলাবার আসবো একদিন ।” “আসবে বইকি বাবা। ওঁদের দুজনে যে রকম বন্ধত্ব ছিল, তোমার মার সঙ্গে আমার যে রকম আত্মীয়তা ছিল, তোমায় ত পর বলে মনে হয় না, যেন ঘরের ছেলেটি বলেই মনে হয়। ঘরের ছেলের মত আসবে যাবে। এইখানেই এখন থাক না দিন কতক। বাসায় খাবার দাবার কাট " মাতৃবিয়োগের পর হইতে এমন মিস্ট স্নেহপণ কথা ললিতকে কেহ বলে নাই । তাহার ইচ্ছা করিতে লাগিল, এই সাদর নিমন্ত্রণ গ্রহণ করে। কিন্তু আত্মসংবরণ করিয়া বলিল, “বাসায় থেকে থেকেই অভ্যাস হয়ে গেছে কাকীমা, এখন আর কোনও কটবোধ হয় না। তা ছাড়া আমার আপিসও এখান থেকে অনেকটা দর হবে। মাঝে মাঝে আসবো, দেখাশনো করে যাব ।” > - “আবার কবে আসবে ?" ললিত একটু চিন্তা করিয়া বালল, “পরশ বিকেলে আসবো কাকীমা।” নীচে নামিয়া গিয়া ললিত দেখিল, আপিস ঘরে বসিয়া অবিনাশ প্রফে সংশোধন করিতেছে। ললিতকে দেখিয়া সে বলিল, “চললেন নাকি ?” “হ্যাঁ, এবার যাই।—আপনার শ্রাবণের কাগজ এরই মধ্যে সরু হয়ে গেছে নাকি ?” “হ্যাঁ, দ্বিতীয় ফমার অডার প্রফে এসেছে। প্রথম ফমায় আপনার একটা কবিতা গেছে যে ” ললিত একথা শুনিয়া বলিয়া উঠিল, “গেছে নাকি ? কোনটা ?” “শ্রাবণের মেঘ”—বলিয়া অবিনাশ দেরাজ টানিয়া তাহার মধ্য হইতে প্রথম ফৰ্ম্মর্ণর ছাপা ফাইল বাহির করিল। লালতের হতে সেটি দিয়া বলিল, “এই দেখন।” ললিত দেখিল, প্রথম পৃষ্ঠাতেই তাহার “শ্রাবণেং মেথ” ছাপা হইয়াছে। দেখিয়া তাহার § 2"