পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আসতে আসতেই দেখ না ব্যাপার "-ছাতাটি বারান্দায় রাখিয়া, জতাযোড়াটি খুলিয়া অবিনাশ কক্ষমধ্যে প্রবেশ করিল। ললিত বলিল, “ইস-কাপড় জামা চাদর বিলকুল ভিজে গেছে যে হে । ছেড়ে ফেল ছেড়ে ফেল—আমি শুকনো কাপড় জামা বের করে দিই।” ভিজা পিরাণ খলিয়া ফেলিয়া, গামছায় গা হাত পা মছিয়া অবিনাশ শাক বস্ত্ৰ পরিধান করিল। ললিতের গেঞ্জি তাহার গায়ে একট অটো হওয়ায়, তাহা রাখিয়া কোঁচার জন্য বারান্দায় টাঙ্গাইয়া দিল। অবিনাশ বসিয়া বলিল, “কই, আমার কবিতা দাও।” ললিত বলিল, “তুমি কি কবিতার জন্যে এসেছ এতদরে, এই জল বটিতে ?” “তবে আর কিসের জন্যে বল ? তুমি ত আমায় নেমন্তন্ন করনি।”—বলিয়া অবিনাশ হাসিতে লাগিল । ললিত বলিল, “ওবেলা ত তোমাদের ওখানে যেতেই হবে কিনা, কবিতাটি সঙ্গে করেই নিয়ে যাব ভেবেছিলাম। সকালে উঠেই লিখতে বসেছিলাম—এই কতক্ষণ হল শেষও. করেছি।” “কই কই-—দেখি ?” ললিত বলিল, “এখনও সংশোধন করিনি ত, আগে সংশোধন করি তার পর দেখো।” “না—না—দাও, দেখি। যা হয়েছে তাই দেখি।" “এখনও ঠিক মনের মতনটি হয় নি হে ৷ এখনও অনেক জায়গায় বদলাতে টদলাতে হবে।” “বেশ ত, এস না, দু’জনে একসঙ্গে পড়তে পড়তেই বদলান যাক। কই, বের কর। এই খাতাখানি বঝি ?”-বলিয়া অবিনাশ খাতাখানি খালিয়া ফেলিল। প্রথম পৃষ্ঠায় চক্ষ রাখিয়া বলিল—“শ্রাবণ-নিশীথে—বাঃ বাঃ-নামটি ত বড় চমৎকার হয়েছে!”—বলিয়া মনে মনে পাঠ করিতে লাগিল। পাঠশেষে খাতাখানি বন্ধ করিয়া, জানালা দিয়া মেঘপ্লাবিত আকাশের পানে উদাস দুটিতে চাহিয়া দীঘনিঃশ্বাসের সহিত বলিল—“বাঃ—সুন্দর । অতি সন্দর!” শেষে ললিতের মুখপানে চাহিয়া, মাথাটি নাড়িতে নাড়িতে গদগদভাবে বলিল —“সার্থক কলম ধরেছিলে ভাই!” ললিত লজা ও পলক জড়িত কণ্ঠে বলিল, “যাও যাও—ঠাট্টা করতে হবে না।” অবিনাশ বলিল, “না ঠাট্টা করিনি ভাই, বাসতবিকই কবিতাটি অতি চমৎকার হয়েছে। এতকাল সহকারী সম্পাদকী করছি—কত হাজার হাজার কবিতা ঘেটেছি, কিছু কিছ বুঝি ত ! এ রকম কবিতা, সচরাচর আমরা পাইনে! যেমন ভাষার সরলতা, তেমনি ভাবের নতনত্ব !”-বলিয়া খাতাখানি আবার সে খলিল। পড়িতে লাগিল— “দেখিতেছি বসে বসে বাতায়ন পথে, মেঘরাজা উঠিয়াছে আকাশের রথে। - বাঃ-উপমাটি একেবারে নতুন। মাইকেল লেখেনি, হেম বড়িয্যে লেখেনি, রবি ঠাকুর লেখেনি। - থেকে থেকে ছুটে এসে সৌদামিনী রাণী, করেছেন প্রিয়তম সাথে কণাকণি। দেখিয়া এ দশ্য হায়, অন্তর আমার, না জানি কিসের লাগি করে হাহাকার!” খাতা হইতে চক্ষ তুলিয়া, বাহিরে আকাশের দিকে চাহিয়া, আপন মনেই অবিনাশ মাদস্বরে বলিতে লাগিল—“করে হাহাকার—করে হাহাকার –বাঃ অতি সন্দের।” এইরপে কয়েক মহত্ত কবিত্বরসটকু উপভোগের ভাণ করিবার পর অবিনাশ আবার, 38 "אייץ