পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ཟ - ག། - দএকখানি অলঙ্কর যা আছে, তা পরিয়ে মেয়েকে বিবাহ সভার বের করেন কি করে বল দেখি ? অনাদিবাব গা-ভরা গহনা দেবেন, সেইজনেই তাঁর দিকে ঝুকেছেন বইত নয়!” ললিত কয়েক মহত্ত সত্তব্ধ হইয়া বসিয়া রহিল। শেষে বলিল, “আচ্ছা, কত টাকার গহনা হলে চলতে পারে অবিনাশ ?” “হাজার টাকার গহনা হলে কোনও গতিকে এক রকম গা-সাজানো হয়। কনে-গয়না বইত নয় ।” “আচ্ছা, ভাই, আমি যদি হাজার টাকার গয়না মণিমালাকে দিতে পারি, তা হলে কি আমার কোনও অাশা আছে ? আমার একটি হাজার টাকা সম্প্রবল আছে। আমার জন্যে তুমি একবার বলে দেখবে ?” অবিনাশ বলিল, “তোমার যখন এত ঝোঁকই হয়েছে, তোমার জন্যে আমি চেষ্টা করে না হয় দেখতাম। কিন্তু অনাদিবাব যে রকম ধরেছেন--” ললিত কিয়ৎক্ষণ চিন্তা করিয়া বলিল, “দেখ, তুমি ক'দিন থেকেই বাবার বইগুলোর কপিরাইটের কথা আমায় বলছ—কিন্তু এ পর্যন্ত আমি স্বীকার হইনি। স্বীকার না হওয়ার কারণও তোমাকে বলেছি। আচ্ছা, এখন একটি প্রস্তাব করি। তুমি ভাই আমার এই উপকারটি করে দাও, আমি তোমায় কপিরাইট লিখে দিচ্ছি। কিন্তু দাম-টাম অমি নিতে পারব না ভাই—তোমাকে আমি কপিরাইট দানপত্রে লিখে দেব। বল, এই ঘটকালীতে কাজী আছ ?” অবিনাশ বলিল, “কেন কিছু দাম নিতে তোমার আপত্তি কি ? বেশী ত আমার ক্ষমতায় কুলোবে না, এই ধর শব্দই টাকা—” ললিত বলিল, “তুমি এ কাজ করতে যাচ্ছ একটা খেয়ালের বশে। নিশ্চয়ই তোমায় এর জন্যে লোকসান সইতে হবে। তার উপর আবার তোমার কাছে টাকা নিয়ে-না ভাই সে হবে না—সে অন্যায় হবে।” অবিনাশ কিয়ৎক্ষণ চিন্তা করিবার ভাণ করিল। তারপর বলিল, “আচ্ছা, তুমি অত করেই বলছ যখন, তখন দাম নিও না। আমি মনতোষবাবকে, গিন্নীকে বলে কয়ে একবার চেষ্টা করে দেখি।” অবিনাশ অন্য দিকে চাহিয়া আরও কিয়ৎক্ষণ যেন ভাবিল। শেষে বলিল, “কিন্তু যদি সফল হই, আমার ঘটকালিটে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই চাই ভাই। তুমি যে বলবে, আগে দই হাত এক হয়ে যাক, তারপর কপিরাইট লিখে দেব—সে আমি শনব না কিন্তু।” ললিত উৎসাহের সহিত বলিল, “এই ত কথা! আচ্ছা, যেদিন তুমি এসে আমার সংবাদ দেবে যে ওঁরা রাজি হয়েছেন, সেইদিনই আমাকে দিয়ে তুমি দলিল লিখিয়ে নিও।” “আচ্ছা, তবে আমি চেণ্টা করি। কিন্তু দৈখো ভাই, কথার যেন খেলাপ না হয়।” “হবে না। সে বিষয়ে তুমি নিশ্চিন্ত থাক।” দইদিন পরে অবিনাশ ললিতের বাসায় আসিয়া সংবাদ দিল, কত্ত ও গহিণী উভয়েই রাজি হইয়াছেন। আজ সন্ধ্যার পর তাঁহারা ললিতকে আহারের নিমন্ত্ৰণ করিয়াছেন, বোধ হয় এ বিষয়ে কথাবাৰ্ত্তা কহাই তাঁহাদের উদ্দেশ্য। শনিয়া ললিত যেন হাতে সবগ পাইল। তাহার চোখ ছল ছল করিতে লাগিল । չՆ