পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


—“কর কি ? তুমি চিকিৎসার কি জান ? ডাক্তার যা ভাল বোঝেন তাই করন, তার পর আমাদের আদলেট যা আছে তাই হবে।” হেনরি বলিল—“অদষ্ট আবার কি ? জানিয়া শুনিয়া এ ঔষধ এখন খাওয়াইলে নিশ্চিত মৃত্যু। আধঘণ্টার মধ্যে গা হিম হইয়া নাড়ী ছাড়িয়া যাইবে।” ডাক্তারবাব হেনরিকে বলিলেন—“তুমি ত ভারি পণ্ডিত দেখিতেছি ! কেন, নাড়ী ছাড়িয়া যাইবে কেন ?” আমি বললাম—“হেনরি, ডাক্তারবাব যাহা বলিতেছেন তাহাই আমার ঠিক বলিয়া মনে হইতেছে। তুমি কোনও আশঙ্কা করিও না।” শেষকালে হেনরি ডাক্তারকে বলিল,—“আচ্ছা তবে তোমার ঔষধই দাও। কিন্তু যদি আমার মেয়ে মরিয়া যায় তাহা হইলে তোমাকে তাহার হত্যাকারী বলিয়া পলিসে দিব। আর তুমি যে ঔষধ দিতেছ, তাহার একটা তালিকা করিয়া নাম দস্তখত কুরিয়া রাখ।” এই বলিয়া ক্ষিপ্রহস্তে হেনরি প্রেস কৃপসলখানা লিখিয়া ফেলিল। ডাক্তারকে বলিল, —”সহি কর।” - ডাক্তারবাব ইতস্ততঃ করিতে লাগিলেন। আমি দেখিলাম ইহাদের বিবাদের মধ্যে পড়িয়া আমার মেয়ের প্রাণ যায। আমি ডাক্তারবাবর হাতটি ধরিয়া বলিলাম—“মহাশয় ! ওটা পাগল, ওর কথা শুনিবেন না। আপনি যে ঔষধ ইচ্ছা তাহাই দিন।” প্রেসক্লপসনখানা হেনরির হাত হইতে কাড়িয়া লইয়া আমি খণ্ড খণ্ড করিয়া ছি’ড়িয়া ফেলিলাম। ঔষধ দেওয়া হইল। হেনরি রোষকষায়িত লোচনে বলিল—“ঈশ্বর তোমাকে মাতজনা করন।” ডাক্তারের কাছে একটা উৎকৃষ্ট থাম্মমিটার ছিল, অন্ধ মিনিট রাখিলেই কাৰ্য্য সম্পন্ন হয়। পাঁচ মিনিট অন্তর তাপ লওয়া হইতে লাগিল। হা হা করিয়া টেমপারেচার নামিতেছে। ডাক্কারের মুখ শুকাইয়া গেল। মেয়ের হাত পা শীতল হইয়া আসিতেছে দেখিয়া জামার সত্ৰী কাঁদিয়া উঠিলেন। ডাঞ্জার উঠিয়া বাহিরে চলিয়া গেল। হেনরি মহা উত্তেজিত হইয়া বলিল—“দেখ মেয়েকে মারিয়া ফেলিল। আমি উহাকে হত্যা করিব।” এই বলিয়া সে ক্ষিপ্তের মত ডাঞ্জারের পশ্চাদ্বত্তী হইতে চাহিল। তাহাকে ধরিয়া রাখা ভার। ডাক্তারবাব এ ব্যাপার দেখেন নাই। দেখিলে তাঁহার বাঙ্গালী-প্রাণ আর তাঁহাকে চিকিৎসা ব্যবসায়ে লিপ্ত থাকিতে দিত কি না সন্দেহ। আমি হেনরিকে বলিলাম,-“দেখ, তুমি যখন এতই জান, তবে এখনও যদি কিছু প্রতিকার থাকে ত কর।” আমার সত্ৰী বলিলেন—“হেনরি, এ মেয়েকে তুমি যদি বাঁচাতে পার, তবে এ মেয়ে তোমাকে দিলাম।” হেনরি বলিল—“এ মেয়ে আমাকে দিলে ?” আমার পল্লী বলিলেন—“দিলাম।” হেনরির মুখ আনন্দপণ হইল। সেই বিপদের সময়ও তাহার ভাব দেখিয়া আমি বিশ্চিমত হইলাম। লোকটা পাগল নাকি ? হেনরি বলিল—“ঈশ্বর সাক্ষী, এ মেয়েকে যদি বাঁচাইতে পারি, তবে এ মেয়ে আমার ?” আমার স্মী কাঁদিতে কাঁদিতে বলিলেন—“হাঁ হেনরি, এ মেয়েকে যদি বাঁচাইতে পার ত এ মেয়ে তোমার I” হেনরি বলিল—“আচ্ছা তরে একবার চেষ্টা করিয়া দেখি।” বলিয়া ডাঞ্জারের ঔষধের বাক্সটা কাছে টানিয়া লইল। ক্ষিপ্র হতে একটা ঔষধ প্রস্তুত করিল। খানিকট গিরির মখে ঢালিয়া দিল, কিন্তু কে গিলিবে ? ঔষধ ঠোঁটের কোণ দিয়া গড়াইয়া পড়িল। দেখিয়া হেনরি সচের মত কি একটা যন্ত্র বাহির করিল। তাহা ঔষধে সিক্ত করিয়া গিরির দেহের পথানে সথানে বিদ্ধ করিয়া দিল । পাঁচ মিনিট পরে শরীরে উত্তাপ বন্ধি পাইল। দশ মিনিট, পনেরো মিনিট, আধ ঘণ্টা; তখন আবার গিরিবালার পণ জলব ! হেনরি আহমদে জটিখানা। বলিল— bూ: