পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বন্ধা ইতিপবেই বকিতে পারিয়াছিলেন পত্র প্রকৃতিস্থ নাই। বলিলেন, “তুমি খাইয়াছ—এই এক ঝড়ি আম ? অসম্ভব!” • ডিসজা নিকটস্থ চেয়ারে বসিয়া বলিল, “বড়ই ক্ষধা পাইয়াছিল—তাই খা-খা—খাইয়া ফোলয়াছ ” - মাতা বলিলেন—“ননসেন্স। একথা এখন তোমাকে বলিয়া কোনও ফল নাই । কল্য প্রাতে এসম্বন্ধে রীতিমত তদন্ত করিয়া, ব্যাপারটা উপরওয়ালাদের জানাইতে হইবে। সহজে আমি ছাড়িতেছি না। এতগলা আম –রেলের কমচারীরা কি চোর। কি পাষণ্ড ! ছি ছি ছি।” কত্তিক, ১৩২৪ ] বাজীকর প্রথম পরিচ্ছেদ ৷ “ভগবান, আর কন্ট দিও না” লোকটির বয়স ৬০ বৎসরের নিতান্ত কম হইবে না। গালের মাংসগলি বলিয়া গিয়াছে, চল ও গোঁফ বিলকুল পাকা, লাঠি ধরিয়া একটা কোঙী হইয়া পথ চলেন। দেহের বর্ণটি এককালে খুব সুন্দর ছিল, এখন মলিন হইয়াছে, স্থানে স্থানে মেছেতা পড়িয়াছে, তথাপি এখনও রাগিলে গাল ও কপাল হইতে লাল আভা ফুটিয়া বাহির হয়। চোখ দটি বড় বড়, তবে শাদা অংশগলি ঘোলাটে হইয়া গিয়াছে। এককালে ইনি সপরিষ বলিয়া গণ্য ছিলেন সন্দেহ নাই । ই’হার নাম শ্রীরামরতন বস-অথবা প্রোফেসর বোস। বাড়ী বরিশাল জেলায়। আজ ৭ ৮ দিন হইল রঙ্গপরে আসিয়াছেন ; স্থানীয় টাউন হল ভাড়া লইয়া প্রতি সন্ধ্যায় ম্যাজিক দেখাইতেছেন। বাজারের নিকট টিনের ছাপরওয়ালা দইখানি দমাঘেরা ঘর ভাড়া লইয়াছেন। একথানিতে রান্না হয় ; অপূরখানির এক দিকে এক তক্তপোষে তিনি ও তাঁহার সহকারী যুবক, সম্পকে ভাগিনেয়, চরণ শয়ন করেন । অন্য দিকে আর একখানি তক্তপোষের উপর তাঁহার ম্যাজিকের আসবাব পত্র সত্যপীকৃত—তাহারই প্রান্তভাগে এক হাত চওড়া খালি স্থানটিতে ভূত্য হরিদাস গুটিশটি হইয়া কোন মতে রাত্রি যাপন করে। তত্তপোষ দইখানি জরাজীণ ও ছারপোকা-বহল, তথাপি তাহার জন্য স্বতন্ত্র ভাড়া দিতে হয়। অপরাহ কাল। ফালগন মাস, কিন্তু এখনও রঙ্গপরে বেশ শীত আছে। দিবানিদ্রা হইতে উঠিয়া, বালাপোষ গায়ে দিয়া তক্সপোষে বসিয়া বসজো মহাশয় ধর্মপান করিতেছেন— আর, ভাবিতেছেন। বরান্দায় হরিদাস বসিয়া সশব্দে মশলা বাটিতেছে: বামন ঠাকুর তরকারী কুটিতেছে। কুলদা গিয়াছে বিজ্ঞাপন বিলি করিতে। একখানি তৃতীয় শ্রেণীর ঠিকাগাড়ী ভাড়া করিয়া, বেলা ২টা হইতে ৫টা পয্যন্ত সহরময় সে “অদ্যকার অত্যশচয্য” ম্যাজিক খেলার বিজ্ঞাপন বিলি করিয়া বেড়ায়, গাড়ীর ছাদে ইংরাজি বাজনা বাজিতে থাকে। - রামরতন বস তামাক খাইতেছেন, আর ভাবিতেছেন—ভাবিয়া কোনও কল কিনারা পাইতেছেন না। গহে তাঁহার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী এবং দুইটি কুমারী কন্যা। উভয় কন্যার বিবাহকাল উত্তীণ হইয়াছে, কিন্তু অথর্ণভাবে বিবাহ দিতে পারিতেছেন না। বড়টির ত বৈশাখ নাগাদ না দিলেই নয়। অন্ততঃ পক্ষে একটি হাজার টাকার প্রয়োজন, কিন্তু আর্থিক অবস্থা শোচনীয়। রামরতন যৌবন কালে বাড়ী হইতে পলাইয়া গিয়া প্রসিদ্ধ বাজীকর ভূরে খাঁ ও চর্শদ । খাঁ ভ্রাতৃদ্বয়ের সাকরেদী করিয়া ম্যাজিক শিখিয়াছিলেন। তাহার পর গহে ফিরিয়া বিবাহ" করেন। কিছু পৈত্রিক জোৎজমি ছিল, তাহারই উপর নিভীর করিয়া সংসার যাত্রা নিৰ্বাহ করিতেন। কিন্তু তাঁহার সেই প্রথম পক্ষেত্র মী, স্বামীকে একে একে তিনটি কন্যা উপ ९१ - -