পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঈশবরকে সহস ধন্যবাদ : এ যাত্রা ইহাকে বাঁচাইতে পারলাম।” তৃতীয় পরিচ্ছেদ ঈশ্ববরের কৃপায়, হেনরির চিকিৎসা-গণে, গিরিবালা আরোগ্যলাভ করিয়াছে। সপ্তাহের পর পথ্য লাভ করিল। হেনরি সববদা তাহার কাছে কাছে থাকে। কুলীর সদারি করা সে একেবারে ছাড়িয়া দিয়াছে। দিন দিন কিন্তু হেনরির পরিবত্তন লক্ষিত হইতেছে। আজ দই দিন তাহার হাভানা ফরাইয়ছে, কিন্তু কলিকাতায় চাপরাসি পাঠাইল না। হেনরির হাভানা ফরাইলে নিয়মিত দিনের দই চারি দিন পাবেও চাপরাসিকে এখন কলিকাতায় পাঠান হয়। হেনরি সদাই অন্যমনস্ক, কি ভাবে । মুখখানি মলান করিয়া থাকে। কেবল গিরিবালা কাছে আসিলেই যেন তাহার মনের অন্ধকার দরে হয়, মুখে হাসি ফটে। একদিন তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, “হেনরি তোমার কি হইয়াছে বল ত, তুমি সববাদা ভাব কি ?” হেনরি বলিল—“বাব আমি আমার ভূত জীবনের ইতিহাস ভাবি। একট একট, করিয়া আমার সব মনে পড়িতেছে। আমি মাঝে মাঝে পাগল হইয়া যাই, আবার ভাল হই। এবার আমার ভাল হইবার সময় আসিয়াছে।” ভারি বিস্মিত হইলাম হেনরি পাগল ? কই পাগলের কোনও লক্ষণ ত দেখি নাই ! তথাপি কথাটা নিতান্ত অবিশ্ববাসযোগ্য মনে হইল না। এটা আমি বরাবর লক্ষ্য করিয়াছি, হেনরির কথাবাত্ত নিতান্ত পথে কুড়ানো ভিখারীর মত নহে। তা ছাড়া, গিরিবালার রোগের সময় চিকিৎসাশাস্ট্রে সে ত অসাধারণ পাণিডত্যের পরিচয় দিল। ও হয়ত কোথাও একটা বড়গোছের ডাক্তার ছিল, এখন পাগল হইয়া গিয়াছে। হেনরিকে নানারূপ প্রশন করিলাম। সে স্বয়ং স্বেচ্ছায় যাহা বলিয়াছিল, তার বেশী আর একটি কথাও তাহার মুখ হইতে বাহির করিতে পারিলাম না । এই সময়ে গিরিবালা আসিয়া হেনরিকে ডাকিল। হেনরি বালকের মত প্রফুল্ল ও চঞ্চল হইয়া গিরিবালার সঙ্গে চলিয়া গেল। অামি ভাবিলাম, পাগলই বটে। নাহলে এত সত্বর উহার ভাব-পরিবত্তন হয় কেন ? সহজ মানুষ বিয়ণ হইলে, প্রফুল্লতা লাভ করিতে কিছু সময় লাগে। পাগলের সে সময়টুকু আবশ্যক হয় না। কিয়দিন পরে আমি কলিয়ারির আফিসে বসিয়া হিসাব দেখিতেছি, সন্ধ্যা হইবার আর বিলম্ব নাই, দরোয়ান একখানি কাড আনিয়া আমার হাতে দিল। পবেক উল্লিখিত আমার সেই ইংরাজ-বন্ধ মরিসন আসিয়াছেন—সেই যিনি বাঙ্গালী-পরিচ্ছদে হেনরির ফোটোগ্রাফ তুলিয়াছিলেন। আমি স্বয়ং উঠিয়া গিয়া সমাদর করিয়া বন্ধকে লইয়া আসিলাম। অভিবাদন ও প্রথম শিংটাচাব বচনাদির পর তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন —“আপনার সে ইংরাজ বাঙ্গালী কুলীর সন্দারটি আছে ত ?” "আছে বইকি ! কেন বলন দেখি ?” “তাহা হইলে আপনি ভারি বিপদে পড়িয়াছেন।” এই বলিয়া মরিসন মুখখানি অতিশয় গমভীর করিলেন। g আমি একটা শঙ্কিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম—“কেন কেন, ব্যাপার কি ?” “ব্যাপার গরতর। হেনরি একজন ফেরার আসামী। ও লন্ডনের নিকট একটা জেলে আবদ্ধ ছিল। দস্যবৃত্তি ও নরহত্যার অপরাধে অপরাধী; উহার প্রাণদণ্ড হইত। জেল ভাঙ্গিয়া পলাইয়া আসিয়াছে। তাহাকে আশ্রয় দিয়া আপনি আইনানুসারে দণ্ডনীয় হইয়াছেন।” আমি চিন্তিত হইয়া পড়িলাম। নিজের জন্য নহে, হেনরির জন্য। হেনরিকে సa