পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রামরতন বললেন, “কাল সকালে উঠেই পোস্ট আপিসে গিয়ে ২৫ টাম টেলিগ্রাফ নি অভারে পাঠিয়ে দাও।” \ কুলদা বলিল, “পাঠাতেও পাঁচসিকে খরচ। তার পর উপায় ?" রামরতন উচ্চধ্যদিকে অঙ্গলি নিন্দেশ করিলেন। তৃতীয় পরিচ্ছেদ ॥ মাতুলের মাথা খারাপ পরদিন বেলা ৯টার সময় কুলদা টাকা টেলিগ্রাফ করিয়া পোর্ট অফিস হইতে ফিরিয়া দেখিল, মাতুল তক্তপোষে বসিয়া একমনে কি লিখিতেছেন। কাছে গিয়া দেখিল, আদ্যকার বিজ্ঞাপনের জন্য হ্যাণ্ডবিল রচনায় তিনি ব্যস্ত। লেখা শেষ হইলে কাগজখান ভাগিনেয়কে দিয়া রামরতন কহিলেন, "ছাপাখানায় যাও। তুমি বসে থেকে কম্পোজ করিয়ে, দহাজার ছাপতে অর্ডার দিয়ে এস। যেন দটোর মধ্যে পাই ।” কুলদা কাগজখনি পড়িতে পড়িতে বলিল, “কিন্তু আজ তাদের গোটা দশেক টাকা দেবে বলে রেখেছিলাম যে, ছাপতে আবার গোলমাল না করে।” রামরতন বলিলেন, “তাদের বোলো, ক’ল সকালে তাদের সমস্ত বাকী টাকা চকিয়ে দৈবো, পাইপয়সা বাকী রাখব না।” - কুলদা পনরায় হ্যাণ্ডবিলের খসড়াখনির প্রতি দষ্টিপাত করিয়া বলেল, “এটা লিখে ত দিলেন, কিন্তু—কি রকম হবে—কিছ যে বঝেতে পারছিনে। শেষকালে একটা ধাটমো না হয় ।” রামরতন রাগিয়া বলিলেন, “তু-তু তুমি ছাপিয়েই আন না! কি রকম হবে না হবে সে তখন জানতে পারবে। যাও, দেরী কোর না।” কুলদা চিন্তিত মাথে প্রথান করিল। তাহার চিন্তার কারণ এই যে, হ্যান্ডবিলে অদ্য শেষতম—নিতান্তই শেষতম রজনীতে যে নতন ম্যাজিক দেখাইবার কথা ঘোষণা করা হইতেছে, তাহা শধে দশকমণ্ডলীর নহে-কুলদার পর্যন্ত আশ্রতপবে। মাতুল এ ম্যাজিক এতাবৎকাল কোথাও দেখান নাই; এমন কি তিনি প্রসঙ্গকুমেও কখনও এ ম্যাজিকের উল্লেখ করেন নাই। অপর কোনও ম্যাজিকওয়ালা যে ইহা দেখাইতে পারে তাহা পৰ্যন্ত কস্মিনকালেও শুনে নাই। সে ভাবিতে লাগিল, মাতুল এরুপ বিজ্ঞাপন কেন দিতেছেন ? গতকল্য সারারাত্রি তিনি ঘুমান নাই। খালি ছটফট করিয়াছেন এবং মাঝে মাঝে উঠিয়া আলো জালিয়া তামাক খাইয়াছেন। দশিচক্রতায় তাঁহার মাথা খারাপ হইয়া গেল নাকি, কুলদা কিছুই বকিতে পারিল না। এইরুপ বিজ্ঞাপন দিয়া লোক জড় করিয়া, শেষে ফাঁকি দিলে অদস্টে কি আছে বলা যায় না। রঙ্গপুরের ছাত্রগণ মেরূপ দদৰ্শনত, প্রহার পর্যন্ত করিতে পারে। . যাহা হউক, মাতুলের হুকুম কুলদ তামিল করিতে গেল। প্রেসের ম্যানেজারবাব তখনও আসেন নাই। কম্পোজিটরগণ বিজ্ঞাপনের কপি পড়িয়া কুলদাকে আসিয়া ঘিরিয়া দাঁড়াইল এবং জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল, “হ্যাঁ মশায়, এ কি সত্যি ?” কুলদা গভীর ভাবে বলিল, “সত্যি অবশ্য নয়, ইন্দুজাল।” ”সে আপনাদের ইন্দুজালই হোক চন্দ্রজাল হোক—এতে যা সব লেখা আছে, আমরা তা চোখে দেখতে পাব ত ?” “নিশ্চয় পাবেন।” “তবে মশায়, আজকে আমাদের পাস দিতে হচ্চে। আমরা তিনজন কম্পোজিটর, মা, আর মানবাক তে মুকৈ সি-ই পালন পল লিৰ দি - 鬱