পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এস বালা, উঠে এস । কোনও ভয় নেই তোমার।” বালকের বয়স পঞ্চদশ কিংবা ষোড়শ বষ মাত্র। রঙ্গপর টেকনিক্যাল স্কুলে পড়ে, সাহসী বলিয়া সহপাঠী মহলে তাহাব খাতি আছে। কিন্তু টেজের উপর উঠিতে তাহার পা দুটি কাঁপতে লাগিল। রামরতন বালককে তাহার গাত্রবস্ত্র খলিয়া ফেলিতে বলিলেন। দেহের উদ্ধভাগ নগ্ন করিয়া বালক দাঁড়াইল। ভয়ে তাহার বকটি দর দর করিতেছে, মুখখানি লান হইয়া গিয়াছে। حي রমরতন দশকগণের প্রতি, চাহিয়া বলিলেন—“দেখন ভদ্রমহোদয়গণ, আমি এই বালককে তক্ষণ করি।”—বালকের দিকে চাহিয়া মাথা হেলাইয়া বলিতে লাগিলেন—“বাঃ বাঃ-খাসা নধর দেহ। অনেক দিন মানুষ খাইনি, কাঁচ মাংস বেশ লাগবে খেতে।”— বলিয়া জিহৰা বহির করিয়া, তদ্বারা নিজ ওঠযগেল সিক্ত করিতে লাগিলেন। হলভরা সমস্ত লোক একেবারে নিস্তবধ। একটি সচ পড়িলে তাহার শব্দটকুে শনা যায়। বালকের একবার ইচ্ছা হইল, সরিয়া পড়ে–কিন্তু লোকলজীয় সে তাহা করিতে পারিল না । উভয় চক্ষ মাদ্রিত করিয়া, কোনমতে খাড়া হইয়া দাঁড়াইয়া রহিল। রামরতন সহসা বালকের কন্ধোপরি সজোরে এক কামড় বসাইয়া দিলেন। “বাপরে—মারে উহসহ –বালকের এই আত্ত চীৎকারে সেই গভীর নিস্তব্ধতা ভঙ্গ হইল। দর্শকগণের মধ্যে কয়েকজন দাঁড়াইয়া উঠিয়া কন্ধস্বরে বলিল, “ওকি মশায়, ওকে কামড়ালেন কেন ?” . রামরতন বললেন, “কামড়াব না ত খাব কি করে মশায় ? অত বড় মানুষটা ত গপ করে গিলে খেতে পারিনে, একটু একটা করে আমায় খেতে হবে ত! সমস্তটা খাব খেয়ে ইহা শ্রবণমাত্র, বালক টেজ হইতে এক লম্ফ দিয়া খোলা দরজায় দণ্ডায়মান প্রহরীকে ঠেলিয়া উদ্ধদৰ্শবসে পলায়ন করিল। হলের ভিতর তখন মহা গন্ডগোল আরম্ভ হইল। কেহ কেহ উচ্চস্বরে চীৎকার করিতে লাগিল—”এ কি জচ্চুরি নাকি মশায় ? ইন্দ্রজালের প্রভাবে খাবেন ত কামড় দিলেন কেন ? সব বুঝি ফাঁকি ?” রামরতন দেখিলেন, হলের অধিকাংশ লোকই অত্যন্ত উত্তেজিত হইয়া উঠিয়ছে, কেবল পুলিশ সাহেব ও তাঁহার মেম মদ মদ হাসিতেছেন। রামরতন কহিলেন, "কেন মশায়, ফাঁকিটা আমি কি দিলাম ? বিজ্ঞাপন পড়ে দেখন, ইন্দুজাল প্রভাবে খাব বলিনি, ইন্দুজাল প্রভাবে বাঁচিয়ে দেবো বলেছি। আগে খাই, তবে ত বাঁচবে। যার ইচ্ছে হয় আসন না, বিজ্ঞাপনে যে খেলা দেখাব বলেছি তাই দেখাচ্চি।” দশকগণ উত্তেজিত স্বরে বলিতে লাগিল, “থাক থাক ঢের হয়েছে, আর খেলা দেখাতে হবে না। আমরা তোমায় কি রকম খেলা দেখাই তা দেখ। হল থেকে বেরোও দিকিন একবার জোচ্চর কাহেকা ।” মারবে নাকি ? কেন, আমি কি দোষ করেছি ? (যোড়হন্তে পুলিশ সাহেবের পানে চাহিয়া) দোহাই গবৰ্ণমেন্টের, দোহাই ইংরেজ বাহাদরের—আমি নিন্দোষী। তোমরা আমার হ্যান্ডবিল পড়ে দেখ, আমি কি জচ্চুরি করেছি ?” পলিশ সাহেব তাঁহার মেমকে হাসিতে হাসিতে কি বলিতেছিলেন, রামরতনের ক্লন্দন ও দোহাই শনিয়া উঠিয়া দাঁড়াইয়া কহিলেন, “এ বঢ়া টমি ভয় করিও না। কেহ টোমায় মারিটে পারবে মা। (পশ্চাৎ ফিরিয়া) বাবলোগ, টোমরা সব চুপচাপ আপন আপন গহে গমন কর। বে-আইন জনটা করিলে গ্রেফটার হইবে।” অতঃপর দশকগণ গজগজ করিতে করিতে উঠিয়া বাহির হইতে লাগিল। পলিশ স্বাকছু মৰে করিয়া তথর চুল দাঁড়ায় হলেন। چخیسی ۹O