পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কাহারও নাম জানিতে চাহিলেন না বটে, তবে কে কি পড়ে এবং কোথায় থাকে তাহা জিজ্ঞাসা করিলেন। বরেরা কয় ভাই, কোন কোন পরীক্ষা কোন ডিবিজনে সে পাস করিয়াছে, তাহার স্বাস্থ্য কেমন—এ সকল সংবাদও লইলেন। কিয়ৎক্ষণ কথাবত্তার পর সতীশবাব বললেন, “আপনারা একটা বসন—আমি আসছি।”—বলিয়া উঠিয়া গেলেন। বিমলকে লইয়া তিনি উঠিয়া গেলেই ক্ষিতীশ বলিল, “বোধ হয় মে েআনতে গেলেন, নয় ?” নিমাল বলিল, “নিশ্চয়। ভাইটির চেহারা দেখে ত মনে হয়, বেনটি মনোনীত হলেও হতে পারে। শচীন অনুচ্চস্বরে হাসিয়া বলিল, “মনোনীত হবার কথা বলছ, বোনটি কি কবিতা ?” নিৰ্ম্মল বলিল, “দেখি, তোমার ভাগ্যে কি রকম কবিতা যোটে।” কয়েক মিনিট পরে ঝমােঝম মলের আওয়াজ আসিল। যবেকত্ৰয় মুখ টিপিয়া হাসিতে হাসিতে পরস্পরের পনে চাহিল। সতীশবাব কন্যা লইয়া প্রবেশ করিলেন। মনোরমা একখানি জড়ি-পাড় খয়ের-রঙের শাড়ী পরিয়াছে, গায়ে সেই রঙের একটি রেশমী জ্যাকেট, হাতে চারিগাছি করিয়া আটগাছি হরতন-চিড়িতন চড়ি, মাথায় একটি পালিসপাত চিরণী ও তাহার দই পাশেবা দুইটি প্রজাপতি-কাঁটা। টেবিলের কাছে যে একখানি মাত্র চেয়ার ছিল, কন্যাকে সতীশবাব তাহাতেই বসাইয়া বলিলেন, “এইটি আমার মেয়ে ”—মেয়ে নতনেত্রে চেয়ারে বসিয়া, যবকগণকে একটি নমস্কার করিল। ক্ষিতীশ ও নিৰ্ম্মমল উভয়েই আশা করিতেছে, অপর জন মেয়েটির সঙ্গে কথা কহিবে। নিৰ্ম্মলকে বাঙবিমুঢ় দেখিয়া শেষে ক্ষিতীশচন্দ্রই বলিল, “তোমার নামটি কি ?” মেয়েটি চক্ষ না তুলিয়াই বলিল “মনোরমা।” “কি পড় ?” “এখন গ্রিমস ফেয়ারি টেলস পড়ছি।" - যুবকগণ মনে ভাবিতেছিল, বালিকা আখ্যানমঞ্জরী’, ‘চারপাঠ-বড় জোর ‘সীতার বনবাস অথবা ‘মেঘনাদবধ পড়ে বলিবে। সুতরাং পস্তকের নামে ও উচ্চারণের বিশ্বন্ধতায় তাহারা একটা চমকিত হইল ; খাসীও হইল। নিৰ্ম্মল এইবার কথা কহিল। জিজ্ঞাসা করিল, “তুমি কোন স্কুলে পড় ?” “স্কুলে পড়ি না, বাবার কাছে পড়ি।” “বাংগালা কতদর পড়েছ ?” সতীশবাব বললেন, “বাঙ্গালা সমস্ত ভাল ভাল বই-ই ও পড়েছে।” মিমাল মনোরমার দিকে চাহিয়া বলিল, “রবিবাবর কাব্য পড়েছ ? “পড়েছি।” - “কোনও কবিতা মুখপথ বলতে পার ?” - - মনোরমা অবনত মুখে ঈষৎ হাস্য করিল। তাহার পিতা বললেন, "রবিবাবর অনেক কবিতাই ওর মুখস্থ। বল ত মা একটা--এদের শুনিয়ে দাও।" " মনোরমা মদম্বরে গলা ঝাড়িয়া ধীরে ধীরে বলিতে লাগিল— একদা পলকে প্রভাত আলোকে গাহিছে পাখী - হইতে আরম্ভ করিয়া, শেষ পৰ্য্যন্ত আবত্তি করিয়া নীরব হইল। A. ক্ষিতীশ বলিল, “বাং—সুন্দর। লেখাপড়া ত বেশ ভালই দেখছি। আচ্ছা, আর একটা কথা জিজ্ঞাসা করি। রান্নাবান্না কিছু শেখা হয়েছে কি ?” - মনোরমা মস্তকসঙ্কেতে জানাইল যে তাহাও হইয়াছে। সতীশবাব বললেন, “সে বিষয়েও আমার মেয়ের খং পাবেন না। ঘরের,কাৰ্যকৰ্ম্ম । - "רסי