পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করিয়া। দেখিয়া সরমার শবাসরোধ হইবার উপরুম হইল। সতীশবাব একে একে অলঙ্কারগুলি বাক্স হইতে বাহির করিয়া টেবিলের উপর রাখলেন। আতিপাতি করিয়া খুজিলেন, কোথাও প্রকৃত অধিকারীর নমগন্ধও নাই। তখন তিনি বাম হস্তে কপাল টিপিয়া চেয়ারে বসিয়া পড়িলেন । সরমা গহনাগুলি একটি একটি করিয়া তুলিয়া আলোকে ধরিয়া দেখিতে লাগিলেন— হাতে নাড়িয়া নাড়িয়া কোনটি কয় ভাঁরর তাহা অনুমান করিতে লাগিলেন। বলিলেন, “অাহা কার গয়না! হায় হায়!—একি অলপ গয়না! চার পাঁচ হাজার টাকার কম ত নয়। ওগো দেখ, একছড়া গিনিগাঁথা হার । এ সব কি বাঙ্গালীর ? না মাড়োয়ারীর ? বাঙ্গালীর মেয়ে গিনিগাঁথা হার পরে নকি ?” পাঁচ মিনিট এইরপে কাটিলে সতীশবাব বললেন, "আমায় এক গ্লাস জল দাও ত।” সরমা তখন বাক্স বন্ধ করিয়া, স্বামীকে এক গলাস জল আনিয়া দিলেন। তিনি জল পান করিলে তাঁহার হাত হইতে গলাস লইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “আচ্ছা তুমি বধিমানে যখন শনলে যে টাকা পাওয়া যাবে না, তখন তুমি কি করলে ?” - “কি আর করব ? টেশনে এসে ট্রেণে উঠলাম।” “তোমার মনে কি হচ্ছিল তখন ?" “কন্যাদায় থেকে কি করে যে উদ্ধার হব, তাই ভাবতে লাগলাম; আর নিজের অদ্যটিকে ধিক্কার দিতে লাগলাম।” “আর কিছ ভেবেছিলে ?” “আর কি ?” “ভগবানকে ডেকেছিলে ?” “তা-ডেকেছিলাম বইকি।” - সরমা তখন উচ্ছসিত স্বরে বলিলেন, “তবে আর সন্দেহ নেই। এ কার বাক্স নয় —কেউ ফেলে যায়নি। তোমার মেয়ের বিয়ের জন্যে, ভগবানই তোমাকে এ দিয়েছেন।” সরমার কথার স্বরে সতীশবাবর মনে হইল, কাব্য রচনা হিসাবে একথা সে বলিতেছে লা—নিজের মনের সংশয়লেশহীন, দঢ় বিশ্বাসের কথাই ব্যক্ত করিতেছে। সল্লীর এই নিবোধ সরল বিশ্বাসে সতীশের মুখে হাসির রেখা ফুটিয়া উঠিল। সরমা বলিলেন, “কেন, তোমার কি বিশ্বাস হচ্চে না ?” সতীশ একটি দীঘনিঃশ্বাস পরিত্যাগ করিয়া বললেন, “আচ্ছা সে কথা ভেবেচিন্তে পরে দেখা যাবে। বাক্স এখন তুলে ফেল। রাত প্রায় শেষ হয়ে এল ষে। এখন শোয়া যাক এস।” সরমা আলমারি খলিয়া বাক্সটি অনেকগুলি কাপড়ের অন্তরালে লুকাইয়া রাখিয়া, আলমারি বন্ধ করিলেন। সে রান্ত্রি স্বামী সন্ত্রী কেহই মহমত্তের জন্যও চোখের পাতা বজিতে পারলেন না। - ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ পরদিন সতীশবাবর আর অন্য চিন্তা রহিল না। গহনার বাক্সটি স্বন্ধে কি করবেন, ইহাই ভাবিতে ভাবিতে দিন শেষ হইয়া গেল। রাত্রে আহারাদির পর, পত্রকন্যাকে শয়ন করাইয়া সরমা স্বামীর নিকট আসিয়া বলিলেন, “তা, তুমি অত ভাবছ কেন ? ভেবে ভেবে ষে একটা ব্যারাম জন্মে যাবে!" সতীশ বলিলেন, “ভাবছি কি আর সাধে ? এমন প্রলোভনে ঈশ্বর আমায় কেন ফেললেন তা বুঝতে পারছিনে।” সরমা বলিলেন, “ঐ দেখ, ঈশ্বর মানবে, অথচ তাঁর দয়া মানবে না –ঈশ্বর তোমার বিপদ দেখেই তোমাকে ও গহনার বাক্স দিয়েছেন—একথা তুমি বিশ্বাস করতে পারছ না কেন ?” - 88