পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সে ব্লু ও কিছই মীমাংসা হইল না। পরদিন প্রাতে উঠিয়া বিমলকে সতীশবাব চৌমাথা হইতে কয়েকখানি ইংরাজি দৈনিক সংবাদপত্র কিনিয়া আনিতে বলিলেন। প্রত্যেকখানি পন্থান-পঙ্খরুপে অন্বেষণ করিলেন, গহনা হারানোর কথা সংবাদস্তম্ভে কোথাও পাইলেন না, কেহ সে সম্বন্ধে কোন বিজ্ঞাপনও দেয় নাই। আরও দুইদিন কাটিল। এ দইদিনও সতীশবাব সংবাদপত্র অন্বেষণে ব্যাপাত রহিলেন, কেহই গহনার বাক্স হারানোর বিজ্ঞাপন দিল না। তিনি ভাবিতে লাগিলেন, “অতগুলো টাকার গহনা হারালো, অথচ এ তিন চারদিনে কেউ ট: শব্দটি পযর্ণন্ত করলে না।—তবে, সরমা যা বলেছে তাই কি সত্যি নাকি ?” বেলা নয়টার সময় অপিস ঘরে বসিয়া গালে হাত দিয়া সতীশবাব খবরের কাগজ - দেখিতেছিলেন, এমন সময় ক্ষিতীশ আসিয়া উপস্থিত। সে ইহাকে দেখিবামার বলিল, “এ কি মশায়, আপনার চেহারা এমন হয়ে গেছে কেন ? অসুখ-বিসুখ কিছু হয়েছিল নাকি ?” সতীশবাব ক্ষীণস্বরে বলিলেন, “না অসুখ হয়নি। বস। বল, খবর কি ?” “জোঠামশায় এসেছেন।” “কবে এলেন ?” “এই তিন চারদিন হল। বৌবাজারে রয়েছেন, সেইখানে তাঁর জন্যে বাড়ী ভাড়া করেছি কিনা। তিনিই আময় পাঠালেন। বললেন, সতীশবাবর সঙ্গে একবার দেখা হলে ভাল হত। আপনার মেয়েকে তিনি একদিন এসে দেখতে চান।” “কবে ?” “সাহেবদের নববষের ডালি সংগ্রহ করতে তিনি এখন ব্যস্ত রয়েছেন। ১লা জানুয়ারির পর যেদিন আপনার সবিধে হবে, সেইদিনই তিনি মেয়ে দেখতে আসবেন। আপনি যদি ইতিমধ্যে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান, তবে সে দিনটাও অমনি স্থির করে আসবেন।” সতীশবান্স রাস্তার দিকে শান্য দটিতে কয়েক মহত্তে চাহিয়া থাকিয়া সজল নেরে ক্ষিতাঁশের পানে ফিরিয়া বলিলেন, “বাবাজী, এ বিবাহ হবে না।” ক্ষিতীশ অতিমাত্রায় বিস্মিত হইয়া বলিয়া উঠিল, “কেন ?” “মহেন্দুবাব যা চেয়েছেন, তা দেওয়া আমার সাধ্য হবে না।” “কেন ? এমন বেশী কিছ ত তিনি চান নি।” - সতীশবাব ধীরে ধীরে বললেন, "ছেলের গণের তুলনায়, আজকালকার বাজারে তিনি ষা চেয়েছেন তা খুবই অলপ বটে,-কিন্তু সেই অলপ আমার সাধের বাইরে।" ক্ষিতীশ বলিল, “বলেন কি ?” সতীশবাব নিরক্তের হইয়া রহিলেন। কিয়ৎক্ষণ পরে ক্ষিতীশ বলিল, “এঃ-যে ভারি কেলেঙ্কারি হল মশায়! সমস্ত ঠিকঠাক—এখন বলছেন হবে না ?” - সতীশ বললেন, “কি করি বল বাবাজী : মানুষ অবস্থার দাস। এক জায়গায় কিছ টাকা পাবার আশা ছিল, সেই আশার উপর নিভর করেই সম্বন্ধটি করেছিলাম। কিন্তু সেখানে নিরাশ হতে হয়েছে।” “তা হলে, জোঠামশায়কে গিয়ে কি বলব ?” “বোলো, তিনি মহৎ, আমি গরীব, তিনি যেন আমার অপরাধ না নেন। তিনি বা চেয়েছিলেন, তা নিতান্ত সঙ্গত হলেও, আমার ক্ষমতায় কুলিয়ে উঠলো না, তাই বাধ্য হয়ে আমাকে নিরস্ত হতে হল। তিনি অন্য পাত্রীর সন্ধান করন।” তাঁশ অনেকক্ষণ বিষন্ন মখে মাটির দিকে চাহিয়া বসিয়া রহিল। শেষে বলিল, “আছা সতীশবাব, আপনি কত হলে পারেন ?" -പ '8&