পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিনয় বলিলেন, “ওহে বঝেচ না ? তোমায় প্রবীণ বলে বর্ণনা না করলে মেয়েটি তোমার সঙ্গে বেড়াতে যেতে চাইবে কেন ? তারপর, কবিতা-টবিতা বলে তুমি তোমার নম্বীমত্ব করে দিও এখন।” নন্দলাল বললেন, “ওঁকে নিয়ে রোজ আমায় বেড়াতে যেতে হবে নাকি?” “হবে না ?--নইলে কে নিয়ে যাবে ?” “কেন, ঐ যে ছোকরাটি এসেছে—পিসতুতো বোনের মাসতুতো ভাই নাকি শুনলাম বিনয় বলিলেন, "তাও কি হয় ? তোমাকেই যেতে হবে। তুমি কবি শনে, তোমা সঙ্গে দেখা করবার জন্যে মেয়েটি অস্থির হয়েছে। আমাকে জিজ্ঞাসা করলে, তাঁর কি কোনও ছাপানো ফাসী কেতাব আছে ? আমি বললাম—তা ত জানিনে, একট পরেই তিনি জল খেতে ভিতরে আসবেন, সেই সময় তুমি বরং জিজ্ঞাসা কোরো।” নন্দলালবাব বললেন, “তুমি ত ভাল কান্ডটি বাধিয়ে বসেছ দৈরছি ! ওসব স্বাধীনতাওয়ালা মেয়েছেলের সঙ্গে আমি কি বেড়াতে পারি? আমার চৌদ্দ পরষে কখনও বেড়ায়নি। সে সব আমি পারবো না ভাই। আমরা সেকেলে মানুষ, ও সব ইংরেজি ধরণ-ধারণ জানিও না, বঝিওনে; কি বলতে কি বলব, শেষে আমায় একটা জানোয়ার ঠাওরাবে।” কিন্তু অন্ধঘিণ্টা পরে নন্দবাব যখন অন্তঃপরে প্রবেশ করিলেন, কাননবালা আসিয়া প্রণাম করিয়া অতি সহজ ভাবে তাঁহার সহিত কথাবাত্তা কহিতে আরম্ভ করিল, তখন “স্বাধীনতাওয়ালা মেয়েছেলে" সম্বন্ধে নন্দলালবাবর সকল শঙ্কা দর হইয়া গেল -এমন কি, যে যে পত্রিকায় কাননবালার কবিতা ছাপা হইয়াছে, তা যদি সঙ্গে থাকে তবে সেগুলি দেখিবার জন্য তিনি আগ্রহ প্রকাশ করিলেন। পঞ্চম পৰিচ্ছেদ ॥ ভালবাসায় নতন থিওরি বিনয়বাবরে ছেলের অন্নপ্রাশন হইয়া গেল। সোমবার প্রাতের ট্রেণে হরিভূষণবাব কলিকাতায় ফিরিয়া গেলেন। দেবকুমার রহিল, সে এক সপ্তাহ পরে মেয়েদের লইয়া *:उनि প্রাতে ও অপরাহ্লে কাননবালা সাজিয়া গজিয়া জনতামোজা পরিয়া নন্দলালবাবর সঙ্গে পাড়াগাঁ দেখিতে বাহির হয়। চাষাভূষার বাড়ীর মধ্যে প্রবেশ করিয়া তাহদের মেয়েদের সঙ্গে নানা গলপ জড়িয়া দেয়, নন্দলালবাব বাহিরে বসিয়া কলাপাতের নলে দা-কাটা তামাকু সেবন করেন। কাননবালা মাঠে গিয়া চাষীদের লাঙলচষা, পুকুর ধারে দাঁড়াইয়া জেলেদের মাছ ধরা, ছতার-বাড়ী গিয়া ছতার মেয়েদের চিড়ে কোটা-এই সব দেখিয়া বেড়ায় এবং প্রশেন প্রশ্নে নন্দলালবাবকে অস্থির করিয়া তুলে। মাঝে মাঝে পকেট হইতে ছোট একখানি খাতা বাহির করিয়া নোট করিয়া লয়। নোটগুলি কতকটা এই ধরণের ঃ—“ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের কোমরে একপ্রকার রঙীন সভ্যতা বাঁধা থাকে তাহাকে ঘন্সী বলে। মেয়ের চেরা বাঁশে নিমিত এক প্রকার লম্বা গোল (cylindrical) পাত্রে পুকুর ঘাট হইতে চাউল ধাইয়া আনে, ঐ পাত্রের নাম ধচনী। পল্লীগ্রামে তামাককে গড়ক এবং দাড়ি কামানোকে থেউরি হওয়া বলে। বর্ষাকালে বনে জঙ্গলে পাতালফোঁড় নামক একপ্রকার বৃহৎ লাল ফল (ডাল নাই, পাতা নাই) মাটি ফড়িয়া বাহির হয়, অনেক দর হইতে ইহার দগন্ধ পাওয়া যায়।” ইত্যাদি। শ্রান্ত হইলে পাকা সড়কের পলের আলিসায় বসিয়া দইজনে সৰ্য্যাস্তের শোভা দেখে। নন্দবাক মাঝে মাঝে ফাসী কবিতা অবত্তি করিয়া তাহার অর্থ বুঝাইয়া দেন।—এক একটির কবিত্ব-সৌন্দয্যে কাননবালা একেবারে উচ্ছসিত হইয়া উঠে; খাতা বাহির করিয়া সমগ্র কবিতাটি অর্থসহ লিখিয়া লয়। এইরপে দিনের পর দিন কাটিতে লাগিল। দেবকুমার নন্দবাবর সহিত বৈঠকখানাতেই শয়ন করিত। একদিন রাত্রে সে বলিল, “নন্দবাব, আপনি শনলাম অবিবাহিত ?” T \l업