পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করেন। তাহার পর হইতে বেচারি সার হেনরির জন্য অনেক বিফল অনুসন্ধান হইয়াছে। . চট্ট্যাণ্ডে তাঁহার ছবি না বাহির হইলে আরও কত দিন যে এরূপ অনুসন্ধান হইত তাহার সিথরতা নাই। শুধু ছবি হইতে আমার বন্ধ তাঁহার খল্লতাতকে হয়ত নাও চিনিতে পারিতেন, কিন্তু আপনি যে তাঁহার হাভানা সিগারের প্রতি একান্ত আনরেক্তির কথা উল্লেখ করিয়াছেন, ইহাতেই তাঁহাকে সনাক্ত করিবার বিশেষ সুবিধা হইয়াছে। আপনি যদি অনুগ্রহ করিয়া সার হেনরির বক্তমান ঠিকানা আমাদিগকে জানান, তবে তাঁহার ভ্রাতুঙ্গপত্র তাঁহাকে গহে ফিরাইয়া লইয়া আসিবার বন্দোবসত করবেন। (স্বাক্ষর) পত্ৰখানি পাঠ করিয়া বন্ধকে প্রত্যুপণ করলাম। বলিলাম—“এমন ব্যাপার!” মরিসন জিজ্ঞাসা করিলেন—“আচ্ছা, আপনি এতদিন সার হেনরির আচার ব্যবহারে, কথাবাত্তায় কোনও রপে তাঁহার পরিচয়ে সন্দিহান হইয়াছিলেন ?” হেনরি সেদিন আমাকে তাহার ভূতজীবন সম্বন্ধে যাহা বলিয়াছিল, তাহাই মরিসনকে বললাম। শনিয়া তিনি বলিলেন—“সুসংবাদ বটে। সার হেনরি তবে আরোগ্যের পথে আসিয়াছেন।” তামি অনেকক্ষণ নীরব রহিলাম। শেষে জিজ্ঞাসা করিলাম—“আপনি তাঁহাদিগকে হেনরির—অর্থাৎ সার হেনরির—ঠিকানা জানাইয়াছেন ?” द्;ि “না। জানাহব বলিয়াই ত সংবাদ লইতে আসিয়াছি যে এখনও এখানে তিনি আছেন না।” “তবে সংবাদ দিন। আহা, বেচারা কত কটই পাইয়াছে ?” “তা আর নয় ; অত বড়মানুষ হইয়া পথে পথে ভিক্ষা করিয়া বেড়ান ! কেমন করিয়া উহার দিন গজরাণ হইত কে জানে ?” “দিন গজরাণ শধ্যে নহে, হাভানা সিগার কোথা হইতে আসিত ? পাগল সব ভুলিত, —পরিবার, পরিজন, বিষয়, পদমৰ্য্যাদা—কিছই মনে থাকিত না ; কেবল হাভানা সিগারটি ভুলিতে পারিত না। মোঁতাত এমনি জিনিস " মরিসন বিদায় গ্রহণ করিতে চাহিলেন । জিজ্ঞাসা করিলেন—“সার হেনরিকে কখন, কি ভাবে একথা জানাইবেন ?" আমি বলিলাম—“অবসর বুঝিয়া এক সময় কথা পাড়িব।" . বন্ধ সাবধান করিয়া দিলেন—“দেখিবেন, হঠাৎ না হয়। তাহা হইলে হয়ত বিপরীত ফল হইবে। একটু যা আরোগ্যর লক্ষণ দেখা গিয়াছে তাহ অন্তহিত না হইয়া যায়।” আমি বলিলাম—“সে সাবধানতা অবশ্য গ্রহণীয়। আপনার ট্র্যান্ড-খান আর চিঠিখানা দিয়া যান।” চতুর্থ পরিচ্ছেদ পরদিন প্রভাতে হেনরির সঙ্গে দেখা হইলে প্রথমে তাহাকে স্ট্র্যাণ্ড ম্যাগাজিনে তাহার প্রতিমাত্তি দেখাইলাম। ছবি দেখিয়া এবং ছবির নিম্নস্থ বিবরণ পড়িয়া সে মৌন ছইয়া রহিল। অপরাহ্লে তাহার সহিত আম-বাগানে পদচারণা করিতেছিলাম। খোকার অসুখ করিয়াছে বলিয়া গিরিবালা বেচার বেড়াইতে হাসিতে পায় নাই। স্ট্র্যান্ডের কথা তুলি nাম। এ কথা সে কথার পর সহসা জিজ্ঞাসা করিলাম—“ট্র্যোন্ডের সম্পাদকের সঙ্গে তোমার পরিচয় আছে ?” হেনরি বিস্ময়বিসফারিত নেত্ৰে বলিল—“আছে। কেন ?" - আমি একটা ইতস্ততঃ করিয়া হেনরির হাতে ট্র্যান্ড সম্পাদকের পত্ৰখালি দিলাম। TMᏱ