পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


"কাকে চাও, শনি ?” “কাননবালাকে ৷” বিনয়বাব বলিলেন, “বল কি হে? অ্যাঁ ! ব্রাহ্ম মেয়ে বিয়ে করবে ? জাতটি ষাবে যে ” “জাত গেল ত বয়েই গেল।” বিনয় কিয়ৎক্ষণ অবাক হইয়া বন্ধর মুখপানে চাহিয়া রহিলেন। শেষে বলিলেন, “ও কি কথা হে ? সত্যি বলছ তুমি ?” নন্দবাব যেন একটা অধীর হইয়াই বলিলেন, “তোমার যে অন্ত পাওয়া ভার দেখছি। গোড়ায় তুমিই বলেছিলে খাসা একটি ডাগর মেয়ে আসছে, যদি বিয়ে করতে চাও ত এই সংযোগ —এখন এ রকম কথা বলছ কেন ?” বিনয়বাব বলিলেন, “আমি তখন আমোদ করে বলেছিলাম বইত নয়। আমি কি তখন জানি যে সত্যিই তুমি ব্রাহ্ম মেয়ে বিয়ে করবার জন্যে ক্ষেপবে—বিশেষ এই বয়সে ?” ইহার পর নন্দলাল নিজের মনের অবস্থাটা অলেপ অলেপ সবই বিনয়বাবকে বলিলেন। দেবকুমার যাহা যাহা বলিয়া গিয়াছে—সকল কথা নয়—তাহারও কিছু কিছু প্রকাশ করিলেন। সকল কথা শুনিয়া বিনয়বাব বলিলেন, “তাইত হে বড়ো বয়সে তোমায় এ রোগে ধরলো ? এ ত বড় সোজা রোগ নয়!” মন্দ বলিলেন, “রোগ ত সোজা নয়ই;—আরোগ্য হতেও ইচ্ছে করে না।” বিনয়বাব হাসিয়া বলিলেন, “ও রোগের লক্ষণই ত তাই ভয়া। তা তোমার মনের ভাব যখন এ রকমটাই দাঁড়িয়েছে, তখন বিবাহ কর আমি বাধা দেবো না। আর ব্রাহ্ম হলেও, ব্রাহ্মণের মেয়ে ত বটে। ওর বাপ ব্রাহ্ম হবার আগে মস্ত কুলীন ব্রাহ্মণ ছিলেন । বিয়েটা ত হয়ে যাক, তার পর দুজনে একটা প্রায়শ্চিত্ত-টিত্ত করে নিও। ফলপরে যদি তোমায় কিনে দিতে পারি—আশা ত আছে পারবো-তখন তুমি হবে গ্রামের জমিদার; কোনও ব্যাটা ট্যাঁ ফোঁ করতে পারবে না । ভটচায্যি মশায়দের—” নন্দলাল বলিলেন, “তাই হবে। সেই ব্যবস্থাই হবে । শুভকর্মটা ত আগে হয়েই যাক। এখন থেকে গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল দিয়ে দরকার নেই।” বিনয় হাসিয়া বললেন, “যে রকম শনছি, সে ত হয়েই গেছে ধর। কথায় বলে, গাইবাছরে ভাব থাকলে বনে গিয়ে দুধ খাওয়ায়।” নন্দলাল কৃত্রিম রোষে বলিলেন, "চুপ! এটা কি একটা উপমা হল ?” বিনয়বাব বললেন, "কেন, মন্দ কি হল ? তুমি একটা উপমা দিলে, তাই আমিও একটা দিলাম।—সম্পকে গাই বছর না হলেও, বয়সে ত বটে।”—বলিয়া তিনি হাসিতে লাগিলেন। দই দিন ধরিয়া উভয় বন্ধতে এ সম্বন্ধে অনেক পরামর্শ হইল। পিথর হইল, এখন বিবাহ করিয়া দেশে না আসিয়া, কলিকাতা হইতেই ভাওয়ালপরে চলিয়া যাওয়া ভাল। বাড়ীখানি তৈয়ারি হইতেও অন্ততঃ পক্ষে বছরখানেক লাগিবে। ফলপরের বক্তমান অধিকারী এখন যেরপ মাল্য হকিয়াছেন, কিছুদিন চুপচাপ থাকিলে সে মল্যও কিছ । কমিতে পারে। সকল দিক বিবেচনা করিয়া এখন দই তিন বৎসর এখানে বধসহ না আসাই ভাল। কয়েকদিন পরে কলিকাতা হইতে দেবকুমারের পত্র আসিল, বাড়ী প্রভৃতি ঠিক হইয়াছে। নন্দলালবাব কলিকাতা যারা করিলেন। বিনয়বাব স্টেশনে গিয়া তাঁহাকে গাড়ীতে তুলিয়া भिग्ना I नशभ भब्रिटश्झन ॥ थार्गम्ठ-निब्रान আজ একমাস নন্দবাব কলিকাতায় আসিয়াছেন। কাননবালার পিতা সরেশবাবর সহিত তাঁহার বেশ আলাপ পরিচয় হইয়াছে, যাতায়াতও আরম্ভ করিয়াছেন। কাননের - ৬১