পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৯৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হবেক বলিল, “দেখন, এখন ত আমার সময় নেই। আপনারা এখন বাড়ী যান, ঠিকানাটা বরং বলে দিয়ে যান, আমি ওবেলা আসবো এখন। নদে ছত্তর বললেন না ? কত নলবর ?” রতন ভেঙ্গাইয়া বলিল, “আব নম্বরে কাজ নেই ! নম্বর জেনে নিয়ে ও-বেলা উনি আসবেন! আমায় কচি খকৌটি পেয়েছ কিনা!” . জনতা হইতে একজন বলিয়া উঠিল, "ছেড় না বামুনগিন্নী, মংলর ভাল নয়, ফাঁকি দৈবে।”—একজন বখাটে যবেক গাহিয়া উঠিল--"ফাঁকি দিয়ে প্রাণের পাখী উড়ে গেল আর এল না—আহ্‌ ৷” ইহাদের প্রতি সরোষ কটাক্ষপাত করিয়া, যুবকের দিকে ফিরিয়া রতন স্বাভাবিক স্বরে বলিল, “দেখ, ও সব চালাকি রাখ। ভাল চাও ত আমার সঙ্গে বাড়ী এস। নইলে আমি পুলিশ ডাকবো তা কিন্তু বলে দিচ্ছি হ্যাঁ!” যুবক বলিল, “আমি এখন কিছুতেই আপনার সঙ্গে যেতে পারব না— আপনি পুলিশই ডাকুন আর যাই করন।”—বলিয়া সে গভীর হইয়া দাঁড়াইয়া রহিল। যদিও সেই ছোট গলি, তথাপি আগে পিছে আশে পাশে এতক্ষণে অন্ততঃ ১৫৷২০, জন লোক জমা হইয়া পড়িয়াছিল। একজন বলিয়া উঠিল—“অহা যানই না মশাই, মেয়েমানষেটি কি রকম দেখেই আসন না। হায় হায়, আমাদের কেউ ডাকে না রে!” রতন দেখিল, এখানে দাঁড়াইয়া এমন করিয়া কথা কাটাকাটি করিয়া আর কোনও লাভ নাই—জনতা বাড়িতেছে এবং তাহারা অপমানসচক মন্তব্য করিতে আরম্ভ করিয়াছে। ধীরভাবে যুবকের পানে চাহিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “কোথা আছ বললে ?” “অগসত্যকুণ্ডে—বিশ্বনাথ মিশনের সেবাশ্রমে । আপনি বিশ্বাস করন, ওবেলা আমি আসবো। এখন আমায় রেহাই দিন-দোহাই আপনার। দেখছেন ত!—বলিয়া যবেক জনতার দিকে নেত্রপাত করিল। রতন বলি, “নিশ্চয় আসবে ? আমরা থাকি ডি-২৬ নম্বর নদীয়া ছত্তরে। তিন সত্যি কর যে আসবে।" যবেক বলিল, “তিন সত্যি করছি—আসবে, আসবো, আসবো। ওবেলা ৫টার সময় নদে ছত্তরে আপনার ডি-২৬ নম্বর বাড়ীতে আসবো। আপনাদের বাড়ীতে অন্য লোকেরাও আছেন ত ? তাঁরা বোধ হয় আমায় দেখলেই বুঝতে পারবেন যে আমি আপনাদেব বিনোদ নই। তখন আমায় রেহাই দেবেন ত?” . রতন বলিল, “পরের কথা পরে হবে। আমি বিশ্বনাথ সেবাশ্রম চিনি। যদি না আস, পাঁচটার পর আমি কিন্তু সেখানে গিয়ে সোর হাঙ্গাম বধিয়ে দেবো ;-গলায় গামছা বোধে তোমায় হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে আসবো। রত্নী বামনী সোজা মেয়ে নয়।” “আসবো আসবো। এখন বাড়ী যান।”—বলিয়া যবেক গমনোদ্যম করিল। রতন বলিল, “আর একটা কথা। কোন দিকে মুখ করে রয়েছে বল দেখি ?” যবেক বলিল, “কেন? দক্ষিণ দিক।" “বাবা বিশ্বনাথের মন্দির এখান থেকে খাড়া দক্ষিণ। বাবার মন্দিরের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে, আমি ব্রাহ্মণকন্যে আমার সমখে তুমি তিন সত্যি করেছ—সেইটি মনে রেখ। আমি আর এ হাটের মাঝে দাঁড়িয়ে তোমায় কি বলবো! এখন তুমি জান আর তোমার ধৰ্ম্ম জানে!”—শেষের কথাগুলি বলিতে বলিতে রতনের গলার বর যেন ভারি হইয়া উঠিল, তাহার চক্ষ দুইটি ছল ছল করিতে লাগিল। “ঠিক আসবো। ডি-২৬ নম্বর নদীয়া ছত্তর। প্রণাম।”—বলিয়া যবেক জনতা ভেদ করিয়া প্রস্থান করিল। দুই ভগিনীও বিষন্ন মনে গহাভিমুখে চলিল। ఆఫ్రో