বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রাকৃতিকী.pdf/১২৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০০
প্রাকৃতিকী

পিছনে পড়িয়াছিল, তাহারা আত্মোন্নতি ও আত্মরক্ষার যে কয়েকটি উপায় গ্রহণ করিয়াছিল, তাহার কোনটিই উহাদিগকে মনুষ্যত্বের দিকে অগ্রসর করে নাই। যে সকল প্রাণী কোমলদেহে কঠিন মেরুদণ্ডকে পোষণ করিতে আরম্ভ করিয়াছিল, শেষে কেবল তাহারাই জয়ী হইয়া পড়িয়াছিল।

 সমেরুদণ্ড জীব বহুকাল জলচর প্রাণীর আকারে সমুদ্রে বিচরণ কবিয়াছিল, এবং পরবর্ত্তী যুগে ইহাদেরি কতকগুলি স্থলচর হইয়া দাঁড়াইয়াছিল। জীবতত্ত্ববিদ্‌গণ এই পরিবর্ত্তনের নানাপ্রকার কারণ প্রদর্শন করিয়া থাকেন। তন্মধ্যে চন্দ্রের আকর্ষণকে যাঁহারা প্রধান কারণ বলিয়া উল্লেখ করেন, তাঁহাদেরি কথা যথার্থ বলিয়া মনে হয়। ইঁহারা বলেন, অতি প্রাচীনকালে যখন চন্দ্র পৃথিবীর খুব নিকটে ছিল, তখন তাহার প্রবল টানে সমুদ্রজালে অত্যন্ত অধিক জোয়ার-ভাঁটা হইত। এই জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে যে সকল জলচর জীব স্থালে উঠিত, ভাঁটার জলের সঙ্গে তাহাদের সকলগুলিই সমুদ্রে পড়িত না। এই প্রকারে কতকগুলি জীবকে প্রতিদিনই দুইবার করিয়া স্থলবাসী হইতে হইত। হঠাৎ প্রতিকূল অবস্থায় আসিয়া পড়িলে, প্রতিকূলতাকে অনুকূল করিয়া লওয়াই জীবের জীবত্ব। কাজেই সাধারণ জলচর জীব যে শ্বাসযন্ত্রের সাহায্যে জলের ভিতরকার অক্সিজেন সংগ্রহ কবিয়া জীবিত থাকিত, তাহার পরিবর্ত্তন আবশ্যক হইয়াছিল। জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে স্থলে আসিয়া পড়িলে তাহা দ্বারা বায়ুর অক্সিজেন সংগ্রহ করা যাইত না। এই প্রয়োজনই জলচরের ফুলকোকে (gill) অলস করিয়া রাখিয়া নৃতন শ্বাসযন্ত্র ফুসফুসের (Lungs) উৎপত্তি করিয়াছিল।

 সমেরুদণ্ড জলচর জীব পূর্ব্বোক্ত প্রকারে স্থলচর জীবে পরিণত হইয়া ক্রমোন্নতির পথ ধরিতে পারিয়াছিল কি না, এখন আলোচনা করা যাউক। জলচর জীব পরীক্ষা করিতে গেলে প্রথমেই তাহার