বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রাকৃতিকী.pdf/৯২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ডপ্‌লার সাহেবের সিদ্ধান্ত
৭১

দূরবীণ্ দিয়া এই স্তরের সন্ধান পাওয়া যায় না। পূর্ণ সূর্য্যগ্রহণকালেই এই স্তর পরীক্ষার উপযুক্ত সময়। গ্রহণকালে যখন চন্দ্রের কৃষ্ণ বিম্ব সূর্য্যের উজ্জল দেহ ও আলোকমণ্ডলকে আবৃত করিয়া ফেলে, তখন সূর্যের ঐ তৃতীয় স্তর ছটার মত সূর্য্যকে ঘিরিয়া আছে দেখা যায়। যাহা হউক, ডপ্‌লার সাহেবের সিদ্ধান্ত অনুসারে বর্ণচ্ছত্র পরীক্ষা করায় সূর্য্যের বর্ণমণ্ডল এবং এই মণ্ডল হইতে নির্গত বর্ণ-শিখার অনেক নবতথ্য সংগ্রহ করা যাইতেছে। এই প্রকার পরীক্ষায় কতকগুলি শিখাকে প্রায় ষাইট হাজার মাইল পর্য্যন্ত দীর্ঘ হইতে দেখা গিয়াছে এবং কতকগুলিকে প্রতি সেকেণ্ডে দুই শত হইতে তিন শত মাইল পর্য্যন্ত বেগে উপরে উঠিতে দেখা গিয়াছে। সূর্য্যের তৃতীয় বাষ্পাবরণ অর্থাৎ ছটামুকুট পরীক্ষাতেও আধুনিক জ্যোতিঃশাস্ত্র যথেষ্ট লাভবান হইয়াছে। এই অংশের বর্ণচ্ছত্রে এমন কতকগুলি বর্ণরেখা দেখা যায়, যাহা আমাদের পরিজ্ঞাত কোন পদার্থের বর্ণচ্ছত্রের সহিত মিলে না। বৈজ্ঞানিকগণ এই প্রকারে কোরোনিয়ম্ (Coronium) নামক একটি নূতন মূল পদার্থের আবিষ্কার করিয়াছেন। হেলিয়ম্ (Helium) ধাতুর আবিষ্কারের অনেক পূর্ব্বে সূর্য্যের বাষ্পাবরণে ইহার অস্তিত্ব ধরা পড়িয়াছিল। হেলিয়মের আবিষ্কারক সার উইলিয়ম র‍্যাম্‌জে (Ramsay) সাহেব এই প্রকারে প্রথমে এই জিনিষটার সন্ধান পাইয়াছিলেন।

 বর্ণচ্ছত্র ও ডপ্‌লারের সিদ্ধান্তের সাহায্যে এতগুলি নূতন আবিষ্কার সুসম্পন্ন করিয়াও বৈজ্ঞানিকগণ ক্ষান্ত হন নাই; ইহা লইয়া আজও নানা পর্য্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধান চলিতেছে।