পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/১০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


సె 8 প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (২১) “রতন ঠাকুর”—এই পালাটি চন্দ্রকুমার বাবু ময়মনসিংহের কাঠঘর নিবাসী গাছিম সেখের নিকট পাইয়াছিলেন। (২২) “হাতি খেদার গান”— মুসলমান কবি-রচিত, চন্দ্রকুমার দে-সংগৃহীত। (২৩) “আয়না বিবি”—মুসলমান কবি-বিরচিত, চন্দ্রকুমার দে সংগ্রহ করেন। ইহা ছাড়া আরও অনেক কাব্য আমরা আরও বহু মুসলমানের নিকট হইতে পাইয়াছি। হিন্দুদের নিকট হইতেও কতকটা সংগৃহীত হইয়াছে। কিন্তু মুসলমানগণই মূলত ইহা রক্ষা করিয়া আসিয়াছেন, তাহারাই এই সাহিত্যের চৌদ্ধ আনি রক্ষক। অনেক গাথার নকল আমার কাছে আছে । তৎসম্বন্ধে কোনই আলোচনা হয় নাই, প্রকাশিত হওয়া ত দূরের কথা। তদ্ব্যতীত পল্লীর বাগানে যেরূপ যুঁই, কুন্দ, রজনীগন্ধা ও অপরাজিতার অন্ত নাই, পল্লীর বকুল, শিউলী, ও অতসীর দান যেরূপ অজস্ৰ, তেমনই শত শত গীতিকা, পালাগান—ময়মনসিংহ, শ্রীহট্ট ও চট্টগ্রামের পল্লীতে পল্লীতে এখনও পাওয়৷ যাইতে পারে। আমি পূৰ্ব্বেই বলিয়াছি, নব-ব্রাহ্মণ্য যে সকল স্থানে সেন-রাজত্বে প্রবেশ করিতে পারে নাই, সেইখানেই ইহাদের প্রাচুর্য, যেহেতু এই সকল পল্লী-গীতিকা সেই সকল স্থানে বহুদিন রাজত্ব করিয়াছে। এই প্রকারের গান ছাড়া রূপকথাও এই সকল পল্লী অঞ্চলে সমধিক পরিমাণে পাওয়া যায়, তাছার কিয়দংশ লালবিহারী দে, কতক দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার এবং কিছু আমি সংগ্ৰহ করিয়াছি, কিন্তু এই রূপ-কথা সাহিত্য এত বিরাট যে, ইহার সামান্য অংশই এপর্য্যন্ত সংগৃহীত বা প্রকাশিত হইয়াছে। রূপকথার অধিকাংশই গদ্যে, মাঝে মাঝে কয়েক পংক্তি কবিতা আছে ; গল্প বলিবার সময় আলাপিনীরা তাহা গান করিত। এই রূপকথা-সমুদ্রের কয়েকটি লহরী নানা পথে যুরোপ প্রভৃতি সুদূর পশ্চিমে ও কাম্বেডিয়া, শুাম, যাভা, এমন কি বলী দ্বীপে প্রবেশ লাভ করিয়াছে।