পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/১১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন বাঙ্গল সাহিত্যে মুসলমানের অবদান > 0 } মুসলমানের দান কম নহে- বরং বেশী এবং ইহাও বুঝাইব যে, এই সাহিত্য প্রধানতঃ মুসলমানেরাই বক্ষা করিয়৷ আসিয়াছেন। বঙ্গ-সাহিত্যের এই ংখ্যাগরিষ্ঠ ও গুণগরিষ্ঠ-শাখা বাদ দিয়া এই সাহিত্যকে দাড় করাইবার চেষ্টায় আমরা যে মূৰ্ত্তি গড়িতেছি, তাহ। আমার নিকট কবন্ধের মত মনে হয় । আমি পূৰ্ব্বেই বলিয়াছি, গোড় সামাজিকগণের নিকট তাড়া খাইয়া পল্লীর হিন্দু-গায়েন-সম্প্রদায় তাহাদের মূল-কৰ্ম্মক্ষেত্র হারাইয়া ফেলিয়াছে, উহা এখন পর্য্যন্ত মুসলমানেরাই দখল করিয়া আছে। হিন্দুরা ছাড়িয়া দিলেও পৌরাণিক ধৰ্ম্ম-আদশের সম্পূর্ণ বাহিরে মুসলমানের কুটারে জননীরা এই সকল রূপকথ। ছাড়েন নাই। সুতরাং সমধিক পরিমাণে আমরা র্তাহাদের নিকটই উপরোক্ত এই প্রাচীন সম্পদের সন্ধান পাইতেছি । এই বৃহৎ কথা-সাহিত্যে এখন খুজিবার বহু বিযয় আছে। নব-ব্রাহ্মণ্য-শাসিত রাঢ় দেশ অপেক্ষ বৌদ্ধাদর্শে গড়া পূৰ্ব্ব ও উত্তর বঙ্গেই এই সকল রূপকথার সন্ধান বেশ মিলিবে । সুতরাং আপনাদিগকে আমি এই বিষয়টি অবহিত হওয়ার জন্ত আমন্ত্ৰণ করিতেছি । এখনও মুসলমানের জননীরা স্বীয় শিশুর মুখে স্তন্ত দেওয়ার সময় স্বীয় দেশের সেই সকল প্রাচীন রূপকথা বলিয়া তাহাদিগকে মুগ্ধ করেন, মাতৃস্তন্তের ন্তায়ই তাহার মাতৃভাষার ক্ষেত্রে পরম হিতকর খাদ্য। প্রশ্ন হইতে পারে, এই রূপকথা ও পল্লী-গীতিকা সংখ্যা লঘিষ্ঠ হইতে পারে, কিন্তু ইহারা গুণ-গরিষ্ঠ হইল কি প্রকারে ? তাহ। যদি না হইবে, তবে অসংখ্য কচুবনের মত, বিশাল বাশ-ঝাড়ের মত, বঙ্গমাতার পল্লীর প্রান্তরময় শুামল দূৰ্ব্বা-ঘাসের মত—যদি ইহারা অন্তঃসার শূন্য হয় তবে এত সিংহনাদ করিয়া স্ববৃহৎ ভষ্ম-স্তৃপ আবিষ্কার করিয়া কি লাভ ? সুতরাং আমাদের গুণের বিচার করিতে হইবে । আমি নিজ অন্তরের