পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/১২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান > Y (t সমাজের লোক-চরিত্র এমনভাবে চক্ষের সম্মুখীন হইয়াছে—যেন আমরা আমাদের হারানো-পল্লীকে এই কাব্যে এমন করিয়া পাইয়াছি, যেরূপ শত পণ্ডিত-কবিও আমাদিগকে দিতে পারিতেন না। এই পালা গানটি অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে রচিত হইয়াছিল বলিয়া মনে হয় ; এ বিষয় আমরা ‘পূৰ্ব্ববঙ্গ গীতিকার দ্বিতীয় খণ্ডের ভূমিকায় আলোচন৷ করিয়াছি । ২ । ‘মায়ুর মা” গীতিকাটি এক মুসলমান কবির লিখিত। ইহাতে মণির নামক এক সাপের ওঝার কথা বর্ণিত হইয়াছে। পালাটির ভাষা দেখিয়া মনে হয়, ইহা পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে লেখা। ইহার বিষয়বস্তু সামান্ত এবং ইহা গীতি-কবিতার লক্ষণাক্রান্ত । “মণির ছিল সাপের ওঝাদের মধ্যে সৰ্ব্বপ্রধান। সে স্ত্রীলোক বিদ্বেষী ছিল। কোনখানে যাত্রাকালে স্ত্রীলোকের মুখ দেখিলে সে দুলক্ষণ মনে করিয়া ফিরিয়া আসিত। তাহার বাড়ীর সংলগ্ন মসজিদে পৰ্য্যন্ত সে কোন স্ত্রীলোককে ঢুকিতে দিত না। সে মনে করিত—তাহারা সকলেই নষ্ট, অবিশ্বাসিণী ও দুষ্ট-প্রকৃতির। এদিকে ওঝা-হিসাবে সে এতবড় ছিল যে, যে সাপে-কাটা রোগী মরিয়া একেবারে বরফের মত ঠাণ্ডা হইয়া গিয়াছে, তাহাকে সে গারুড়-মন্ত্র বলে নবজীবন দিত। দেশ-দেশান্তর হইতে সৰ্পদষ্ট-রোগীর’লোকেরা তাহার দুয়ারে ভিড় করিত। “জামাল ফকির নামে এক অতি দরিদ্র ব্যক্তি তাহার অপোগণ্ড একটা কন্যা লইয়া নদীর পাড়ে বাস করিত। তাহার স্ত্রী মারা গিয়াছিল এবং ংসারে আর কেহ ছিল না। জামাল ফকিরকে সাপে কামড়াইল । বহু ওঝার চেষ্টা ব্যর্থ করিয়া সে মৃতপ্রায় হইল, পাঁচজন ওঝা তাহাদের প্রধান মণিরকে ডাকিয়া আনিল । কিন্তু দৈবক্রমে এতবড় ওঝার প্রতিপত্তি এবার রহিল না, জামাল ফকিরকে মণির বঁাচাইতে পারিল না। সেই