পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/১২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান ᎼᎼᎽ তাহার মন শিশুর মত সরল ও বিশ্বাসপরায়ণ ছিল । সে কত কি ভাবিয়াছে,—মঞ্জর মাকে হয়ত দমু্যরা জোর করিয়া লইয়া গিয়াছে । হয়ত বা বাঘে ধরিয়৷ থাইয়া ফেলিয়াছে, এইরূপ কত কি ! কিন্তু সে একবারও ভাবিতে পারে নাই যে, তাহার মাঞ্জুর মা বিশ্বাস-ঘাতিনী। সে উন্মত্তবৎ জঙ্গলের পর জঙ্গলে তাহাকে খুজিয়া বেড়াইতেছে এবং কেন তাহার নবণীতে-গড়া প্রেম-প্রতিমাকে লুষ্ঠিত হওয়ার জন্ত, অথবা পশুর খাদ্য হওয়ার জন্য গুহে একাকী ফেলিয়া গিয়াছিল । এই অনুতাপে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে অপরাধী মনে করিয়া, জল-স্থল খুজিয়া যেমন করিয়া হউক, তাহাকে বাহির করিবে—বারংবার এই শপথ করিয়া পথ ষ্ঠাটিতেছে, সে পথের অন্ত নাই । একদিকে মায়ুর মা ও অপরদিকে মণির ওঝা, এই উভয়ের প্রতিই কবি স্থবিচার করিয়াছেন । শত অপরাধে অপরাধিনী মঞ্জির মার প্রতি কবি তাহার সহানুভূতি হারান নাই; স্ত্রীলোক বলিয়া মানবতার মহাশাস্ত্রের বিধান তাহার প্রতি কঠোর করেন নাই। অপরদিকে শত অপরাধে অপরাধী বৃদ্ধ মনিরের ভালোবাসার দেব-ভাবটার প্রতি তিনি যে আলোকপাত করিয়াছেন, তাহাতে তাহার নির্ভরপরায়ণ, সরল চরিত্র একেবারে স্বৰ্গীয় জ্যোতিতে জ্যোতিষ্মান হইয়া উঠিয়াছে । বহু ক্রোশ জঙ্গল ও লোকালয় খুজিয়াও সে হয়রাণ হয় নাই। সে জলের অভ্যন্তরে ঢুকিয়া প্রেয়সীকে খুজিবে, এই মনে করিয়া নদীর তরঙ্গে স্বীয় প্রাণ উৎসর্গ করিল। মাঞ্জুর মায়ের জন্ত তাহার শোক-গাথার একটি অংশ আমি উদ্ধৃত করিতেছি— “মাঞ্জুর মা যে আমার, আরে দুঃখ, নয়নের মণি। মাণ্ডুর মা যে আছিল আমার রে, নারীর শিরোমণি ॥ মাণ্ডুর মা আছিল আমার কলিজার লউ। মাণ্ডুর মা আছিল আমার সতী কুলের বউ।