পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/১৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন বাঙ্গল সাহিত্যে মুসলমানের অবদান Ꮌ 8 Ꮌ সিপাই লস্কর সব করে হায় হয়। ঘোড়ার পৃষ্ঠ ছাড়ি বিবি জমিতে লুটায়। আস্মান হৈতে তার খস্ত জমিনে পড়িল । এত দিনে জঙ্গলবাড়ী অন্ধকার হৈল ॥ আলাইয়া পড়িল বিবির মাথার দীঘল কেশ । পিন্ধন হইতে খুল্য পড়ে পুরুষের বেশ ॥ সিপাই লস্কর সব দেখিয়। চিনিল। হায় হায় করিয়া সবে কাদিতে লাগিল ॥” সেই করুণ দৃঙ্গে রণ-কান্ত ‘গুলাল' নামক ঘোড়াটারও চক্ষু বহিয়া অগ্র পড়িতে লাগিল । ঘে-বক্ষ শেল-শূল বন্দুকেব গুলি সহিয়া কত আশায়, কত শৌয্যের সহিত অনাহারে রাত্রিদিন যুদ্ধ করিতেছিল, সেই রমণাবক্ষ কোমল কুল শরের আঘাত সহিতে পারিল না । ভালবাসার এই নিদারুণ আঘাতে সে ঢলিয়। পড়িল । কত পালার নাম করিব ? মুসলমান রচিত এই সকল কাব্য-কথা ইস্লাম-চিহ্নিত নহে, ইহ। দেশের মানবতার মিলন-ক্ষেত্র—তীর্থ-ভূমির রজঃ বহন করিতেছে, কিন্তু ইহাতে বাঙ্গালীত্বই বেশী ফুটিয়া উঠিয়াছে। যেখানে কবি প্রেমের কথা কহেন, সেখানে তিনি চরম আদশে গিয়। পৌছেন। অন্ত কোন দেশের লোক প্রেমের জন্ত এত তপস্ত করিয়াছেন বলিয়। আমার জান নাই, এখানে প্রণয়ী-প্রণয়িণীর অল্পে তুষ্ট নহেন, তাহাদের লক্ষ্য ভূমা । প্রেমের জন্ত নারী-পুরুষেরা কত সহিয়াছেন, কত অসহ্য ও অসম্ভব ত্যাগ ও কৃচ্ছের মধ্যদিয়া সহজে জীবন-তরী ভাসাইয়। দিয়াছেন, তাহার বিস্তারিত সমালোচনার স্থানাভাব।