পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/১৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


> 8$ প্রাচীন বাঙ্গল সাহিত্যে মুসলমানের অবদান ৭ । “আয়ন বিবির পালা"টি একটি পল্লী-বালিকার করুণ ইতিহাস । আয়ন বয়ঃসন্ধিতে মহম্মদ উজাল সদাগরকে দেখিয়াছিল। সেই প্রথম সাক্ষাতে সে মুগ্ধ হইল । কিশোরীর ব্রীড়ারক্তিম গণ্ডের আe অস্তগামী সূর্য্য দেখিল আর দেখিল প্রেম-মুগ্ধ তরুণ সদাগব তাহাদের মধ্যে কোন কথাই হইল না । কিন্তু নয়নে নয়নে ঘে-কথা ইষ্টল তাত। হৃদয়ের অন্তর্যামী জানিলেন । আয়নার বাবা এক বিরল-বসতি নদীর-সিকত-ভূমিতে বাস করিতেন । তিনি সদাগরের পিতার বঙ্গ ছিলেন, দৃদ্ধ হুইয়াছেন—তিনি মরিলে আয়নার কি হইবে, ইহা ভাবিয় আকুল । তরুণ সাধু উজাল পিতার মনের কাকতি বুঝিলেন কিন্তু বাধা হইয়। তখনকার মত চলিয়। গেলেন । বাড়ী ফিরির তাহার মনে সোয়াস্তি নাই, বাণিজ্যের ছলে পুনরায় যাত্র করিলেন । কিন্তু এবার অর্থের সন্ধানে মহে, সেই বিণ-নয়নাকে খুজিতে। নৌকাডুবি হইল—উজ্জাল সাধু বনে জঙ্গলে ছয়মাস ঘুরিলেন, আয়নার বাসস্থানে যাইয়া শুনিলেন, তাহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে । কিন্তু আয়ন কোথায় গিয়াছে, তাহ কেহ বলিতে পারিল না । বহু পল্লী ঘুরিয়া এই তরুণ মুসাফির এক সন্ধ্যায় রন্ধন গুহের ধোয়া ও প্রদীপের আলে| দেখিয়া এক গুহে ভিক্ষার জন্ত জিকির ছডিল । সে কদাচিৎ কিছু খায় । ভিক্ষার অর্থ—আয়নার সন্ধান করা। গ্রামের বুড়ীরা বলিল—“এই ফকির মুসাফির নহে, ইহার চক্ষের ভাবে বুঝা যায়,যুবক প্রেমের দেওয়ান ।” পূৰ্ব্ব বর্ণিত যে বাড়ীতে সে উপস্থিত হইয়। ভিক্ষার জন্য ষ্টাক দিল, সেই গুহ হইতে তাঙ্গাকে ভিক্ষা দিবার জন্ত এক নবীনা নারী উপস্থিত হইল, এই নারীই সেই আয়না । পিতার মৃত্যুর পর সে এক আত্মীয়ের বাড়ীতে আশ্রয় লইয়াছিল। উভয়ে উভয়ের জন্ত চির পিপাসিত । সদাগর তাহাকে পরম যত্নে বাড়ীতে লইয়। আসিয়া ধুমধামের সহিত বিবাহ করিল। বিবাহিত জীবনের সেই কয়েকটি বৎসর কত মুখের।