পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ty প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান কবি আবদুল হাকিমের ভাষায় বলা উচিত—“র্তাহার এদেশে বাস করিবার যোগ্য নহেন।” বাঙ্গলা ভাষার প্রসার কিছুদিন পূৰ্ব্বেও যতটা ব্যাপক হইয়া উঠিতেছিল, তাহ আলোচনা করিলে, আমাদের গৌরব অনুভব করার কথা। রাচি ও তন্নিকটবৰ্ত্তী পাহাডিয়া মুণ্ডাজাতি অধুষিত বিহারের প্রান্তভাগ হইতে ভাগীরথীর সমস্ত প্রত্যন্ত দেশ এবং গর্জনশীল পদ্মার দুইকূল ব্যাপিয়া ধন-ধান্তশালিনী সুবিস্তৃত ভূমি এবং উত্তরে নেপাল ও ভূটানের উপত্যক এবং পূৰ্ব্বে চট্টগ্রাম, ত্রিপুর, মণিপুর, আসাম, চাকমা এবং নাফ ও সুবর্ণরেখা নদীর তীরবর্তী আরাকান পৰ্য্যস্ত এক বৃহৎ জনপদবাসী এই ভাষাকে ‘দেশীভাষী বলিয়া গ্রহণ করিয়াছেন এবং কেহ কেহ সুভাষ বলিয়া সম্মান প্রদর্শন করিয়াছেন। কিন্তু এখন সে গৌরব-রবি নানারূপ ষড়যন্ত্রের মেঘে অস্তমিত হইতে চলিয়াছে। আসাম পাদ্রীদের চেষ্টায় কিছু দিন পূৰ্ব্বে বাঙ্গল ভাষা ত্যাগ করিয়াছে ; তথাকার তদানীন্তন স্কুল-ইনস্পেক্টর রবার্টসন সাহেব বহু প্রমাণ ও যুক্তির বলে ইহার যে সমুচিত ও অকাট্য প্রতিবাদ করিয়াছিলেন, তাহ কর্তৃপক্ষের মনঃপুত হয় নাই। মণিপুর এখনও বৈষ্ণব মহাজনদের মধুর পদাবলীতে মুখরিত ; সেখানেও পাদ্রীরা বঙ্গ ভাষাকে তাড়িত করিতে চেষ্টা পাইতেছে। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট তাহারা আবেদন করিয়াছে যে—“মণিপুরে প্রাদেশিক ভাষাকে স্বতন্ত্রভাবে স্বীকার করিয়া তাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্ততর 'ভাৰ্ণাকুলার’ রূপে গণ্য কর। হোক।” পাদ্রীরা সাওতালী ভাষাকেও রোমান অক্ষরে প্রচলিত করার জন্ত প্রাণপণ চেষ্ট পাইতেছে। কোন ‘বহতা’ বিশাল নদীতে চর পড়িলে তাহার প্রসার যেরূপ সঙ্কীর্ণ হয়, দিনে দিনে বঙ্গভাষাকে ক্ষুদ্র হইতে ক্ষুদ্রতর গণ্ডিতে আবদ্ধ করিবার সেইরূপ চেষ্টা চলিতেছে। পূৰ্ব্ব-দেশে চট্টগ্রাম হইতে আরাকান পৰ্য্যন্ত বঙ্গ সাহিত্যের বিস্তার সাধন