পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/১৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান >b" আসিয়া নবাব মুকসুদ আলি খার দরবারে উপস্থিত হইয়৷ গোলামগিরির জন্ত প্রার্থ হইল। নবাব তাহার সুপ্রী ও মুগঠিত দেহ দেখিয়া প্রীত হইলেন এবং তাঙ্গাকে পণ্টনগিরির কাৰ্য্যে বহাল করিলেন । কয়েক বৎসরের মধ্যে অসমসাহসিকত ও সামরিক কৌশল প্রভৃতি গুণ দেখাইয়া সে মনসবদার হইল । “হাজার পণ্টনের মিঞ হুৈল হুকুমদারী।” তাহার ভাই কাছুম খাও এক মৌলবীর শিষ্য হইল, তৎপর মস্তবড় পণ্ডিত হইয়া প্রতিষ্ঠা লাভ করিল। সোনাজান এবং মাছুম খার প্রেমে কখনই ভাট পড়ে নাই, এই পল্লী যুবক-যুবতীর সরল মনে শৈশবের অনুরাগ ক্রমেই বদ্ধমূল হইয়াছিল । বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে তাহ মুছিয়া যায় নাই। গাথসাহিত্য-সুলভ আদর্শ প্রেম, নিঃস্বার্থ প্রাণ-দেওয়া সৌভাগ্য প্রভৃতি মহৎ গুণে গীতিকার পরিসমাপ্তিটি উজ্জ্বল হইয়াছে। গীতিকাটি শেষ অঙ্কে বিয়োগাস্ত করুণ রসে ভরপুর। কিন্তু আমি সেই সকল কথার এখানে উল্লেখ করিব না । গাথা-সাহিত্যের প্রতি অঙ্কে অঙ্কে এইরূপ চিত্র আরও অনেক আছে। এই গীতিকাটির ভাষা একান্ত গ্রাম্য, কবিতার গতিপথ যেন বন্ধুর, চরণে চরণে মিল পড়ে না, প্রায়ই তালভঙ্গ হয় । অপ্রকাশিত গাথাগুলির মধ্যে এই গীতি হইতে অধিক কবিত্বপূর্ণ এবং নায়িকার ত্যাগ ও সহিষ্ণুতায় উজ্জ্বল অনেক গীতিকা আছে, সেগুলি ফেলিয়া আমি এই কাব্যটি লইয়। এত আলোচনা করিতেছি কেন ? তাহার কারণ- চাষীদের মধ্যে যে সতেজ ও বলিষ্ঠ হ্যায়পর চরিত্র এদেশে এখনও দেখা যায়, তাহার কোন চিত্ৰই বঙ্গ-সাহিত্যে নাই । সামাজিক সৌভ্রাত্র, পরের বিপদকে অনাহুত ভাবে নিজের মাথায় করিয়া লওয়া, ঝগড়া লাগিলে দ্যায়েরদিকে প্রাণদিয়া ঝুঁকিয়া পড়া প্রভৃতি সামাজিক গুণ হিন্দু সাহিত্যে একরূপ নাই বলিলেও অত্যুক্তি হইবে না। আদর্শ প্রেম, আদর্শ রাজ-ভক্তি, আদর্শ বিশ্বাস, আদর্শ আত্মত্যাগ ও আদর্শ সহিষ্ণুতার ছবি এই চিত্রশালায় অনেক পাওয়া