পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/২১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান ૨ ૦૪ পৰ্যন্ত মন্দিরের মত পবিত্র। আপনার পুথিপত্র ও পার্শি উর্দুর বয়াৎ বা শাস্ত্রের শ্লোক লইয়া আসিয়া ইহাদের সরল বিশ্বাসে হানা দিবেন না । আমার মনে হয়, আমাদের অনেকের অপেক্ষাই ইহার স্বদেশ-প্রেমিক । আমি এসম্বন্ধে আর কিছু বলিব না। আমি শেষের এই অধ্যায়ে বুঝাইতে চেষ্টা পাইয়াছি—হিন্দু ও মুসলমান বহুকাল একসঙ্গে বাস করিয়া এক হইয়া গিয়াছিল, এই সৌহার্দ-স্থাপনে পরস্পরের উপর পরস্পরের প্রভাব অপরিহার্য্য—তাহ এড়ান যায় না। কবিগণ সম্যকরূপে স্বভাবের বশবৰ্ত্তী হইয়। যে সাৰ্ব্বভৌম উদারত ও প্রীতির পরিচয় দিয়াছেন, তাহা আমার কাছে অনেক মহাগ্রস্ত অপেক্ষাও সত্যের বেশী সন্ধান দেয়, কারণ তাহারা সাক্ষাৎ সম্বন্ধে সত্যের যে পরিচয় পায়, তাহা আমরা বই পড়িয়া পাই না। আমাদের অনেকটাই কোলাহল, অনেকটাই পরস্ব, তাহ নিজস্ব করিয়া লইতে পারি নাই, তাহা কৃত্রিম আবৃত্তি—আমাদের নিজের কথা নহে, কারণ নানা শিক্ষার কুহকে পড়িয়া আমাদের জ্ঞান আচ্ছন্ন হইয়। আছে । আমরা আমাদিগকে চিনি না, আমরা যদি আম হই, তবে মিছামিছি মনে করিতেছি—আমরা জাম এবং এই লইয়া বিতর্ক করিতেছি। এই সকল কৃষক-করিব চিত্ত অতি নিৰ্ম্মল মুকুর স্বরূপ, সত্যের কিরণ তাহাতে সহজেই প্রতিবিম্বিত হইতেছে। আমাদের কি হওয়া উচিত, তৎসম্বন্ধে মতভেদ হইতে পারে; কিন্তু আমরকি—তাহা আগে জানা উচিত, তাহা জানিলে কোন মতভেদের অবকাশ সেখানে থাকিবে না। আমরা কি—সে পরিচয়ের চিত্র অতি নিখতভাবে এই পল্লী-পটুয়ার আঁকিয় দেখাইতেছেন। এক কৃষক-কবি নিৰ্ভীক ভাবে একটি কাহিনী বর্ণনা করিলেন, তাহাতে দেখিতে পাই—“রাজবধু তাহার একান্ত অনুরক্ত স্বামীকে কহিয়া বলিয়া এবং র্তাহার অনুমতি লইয়া স্বীয় প্রণয়ীর সঙ্গে রাজপ্রাসাদ ছাড়িয়া চলিয়া গেলেন।” এই কাৰ্য্যের জন্ত হিন্দু ও মুসলমান সমাজ-গুরুগণ সেই নারীর