পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/২১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২ ০৬ প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান কখনও এমন একখানি হীরক পাওয়া যাইবে, যাহা রাজ-প্রাসাদে নাই, সেরূপ অমূল্য ভাণ্ডার যে তাহাদের আছে, তাহার যথেষ্ট প্রমাণ আমরা দিয়াছি । আমার কাছে শুধু মুসলমানদের নিকট হইতে সংগৃহীত প্রায় ১৫০ খান অপ্রকাশিত পল্লী-গীতিকা আছে। মুদ্রিত পথিও আরও প্রায় তুল্য সংখ্যক আছে। বাঙ্গল দেশের আনাচে-কানাচে যেরূপ সন্ধ্যা মালতি ফুটিয়া থাকে, বঙ্গের অজ-পাড়া গায়ের কুটিরে, এইরূপ কবিতা সুলভ । কিন্তু যাহা সুলভ তাহাই মুল্যহীন নহে । বাতাস তে কত সুলভ, কিন্তু এক মিনিট হাওয়া হইতে বঞ্চিত হইলে বুঝা যায় – তাহার মূল্য কি ? মায়ের স্নেহের মত সুলভ জিনিষ কি, কিন্তু যে হতভাগ্য মাকে হারায়—সে বুঝে সেই মেহের মুল্য কি ? এই গীতিকাগুলি বাঙ্গালী জাতির বৈশিষ্ট্যকে এমন করিয়া বুঝাইয়াছে, যাহা শত গবেষণামূলক, প্রাইজ ও উপাধি পাওয়া থিসিসে পরিবে না—বাঙ্গালীর শৌর্য্য বীৰ্য্য, বিশেষ করিয়া তাহার হৃদয়ের সুকুমারত্ব এই গাথা-সাহিত্যের সর্বত্রস্থপ্রকাশ। প্রকৃতি রোজ রোজ এই দেশে যে-সকল ফুল উপহার দেন, এই সকল কবিত তাহাদের মতই সুন্দর, তাহাদেরই মত আমাদের প্রকৃতি-লক্ষ্মীর নিজ হাতের দেওয়া সামগ্রী। বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষ করিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা মক-কৰ্ত্তব্য—এই পল্লী-সম্পদকে সংগ্রহ করা। র্তাহীদেরই দেশের ইহার এবং সংখ্যা-গরিষ্ঠ মুসলমানদের দ্বারাই ইহা এতকাল রক্ষিত হইয়৷ আছে। যদি মুসলমানগণ র্তাহাদের নিজেদের এই মহার্ঘ সামগ্ৰী তুচ্ছ করেন, তবে তাহাদের ভাষা-জননী নিতান্তই ক্ষুব্ধ হইয়া বন-বাদারে লুকাইয়া কাদিবেন, সেই চোখের জলের অভিশাপের ভাজন তাহারা যেন না হন—বহু সাম্প্রদায়িক ঝগড়া-বিবাদ ছাড়িয়া দিয়া আমরা হিন্দু-মুসলমান যদি একত্র হইয়া স্বীয় উত্তরাধিকার রক্ষা করিতে লাগিয়া যাই, যাহা আমাদের উভয়ের