পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ve প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান নহে ? মুসলমান মহিলাদেরই এ বিষয়ে কৃতিত্ব সমধিক । যাহারা সপ্তগ্রাম, তমলুক ও চাটিগার বন্দরে বিরাট অর্ণবধান নিৰ্ম্মণপূর্বক উত্তাল তরঙ্গসস্কুল বঙ্গোপসাগর ও ভারত-মহাসাগরে যাতায়াত করিতেন এবং যাভায় ১২৭ গ্যালারীতে সন্নিবদ্ধ, কারুকার্য্য-খচিত প্রস্তর-মুক্তিসহ বরোবদোরের বিশাল পঞ্চতল মন্দির নিৰ্ম্মাণের সহায়তা করিয়াছিলেন, সেই শিল্পীরা যে বাঙ্গালীদের নিকট হইতে প্রেরণা পাইয়াছিল, তাহ পাহাড়পুরে সোমবিহারের আবিষ্কারের পর নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হইয়াছে। তাহাদের বংশধরগণ কি এখনও চট্টগ্রামের সমুদ্রগামী জাহাজের নিম্মাতা এবং সারেঙ, ও খালাসি হইয়া চিরাচরিত ব্যবসায়-ধারা কথঞ্চিৎ বজায় রাখিতেছেন না ? হিন্দুরা সমুদ্র-যাত্রা নিষেধ করার পর পক্ষশূন্ত জটায়ুর মত নাবিকগণ ইসলাম পরিগ্রহ করিয়া তাহাদের ব্যবসায় বজায় রাখিয়াছে। এখনও চট্টগ্রামের বন্দরে তাহার ‘গোধু’, ‘সারেঙ্গ, আধুনিক ‘শ্ন প’, ‘বালাম', ‘সাম্পান’, ‘কেঁদো’ প্রভৃতি বিবিধপ্রকারের ক্ষুদ্র-বৃহৎ অর্ণবযান নিৰ্ম্মাণ করিয়া থাকে। চৈনিক-পৰ্য্যটক মহিন্দ লিখিয়াছেন—“চট্টগ্রামের বালামীরা একসময়ে তুরস্কের সুলতান কর্তৃক আলেকজেন্দ্রিয়া বন্দরের জাহাজ নিৰ্ম্মাণে নিযুক্ত হইত। যে-সকল ভাস্কর ও চিত্রকর একদা অজস্তা, খজুরাহ, প্রম্বনম, ব্যাঙ্কক প্রভৃতি স্থানে চরম সফলতা লাভ করিয়াছিল, বঙ্গের প্রাচীন ভাস্কর্য্যে ও চিত্রকলায় সেই সকল দেশের সঙ্গে শিল্পরীতির আশ্চৰ্য্য ঐক্য সম্প্রতি আবিষ্কৃত হইতেছে । বাঙ্গালার গৃহে গৃহে কিছু দিন পূৰ্ব্বেও রমণীরা যে অসামান্ত ধৈৰ্য্য ও দক্ষতাসহ কাশ্মীরী-শাল-নিন্দিত কারুকার্য্যের দ্বারা কস্থা প্রস্তুত করিতেন, তাহাতে ভারতীয় শিল্পীর অতিপ্রাচীনধারাটি সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়িয়াছে। ইহা কি আমাদের সুচিরাগত গৌরবের নিদর্শন নহে? মুকুল দে প্রভৃতি এখনকার অনেক শিল্পীর মতে অজন্ত গুহার চিত্র-নিৰ্ম্মাণে বাঙ্গালী চিত্রকরদের হস্তচিহ্ন মুম্পষ্ট। ইহাদের