পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন বাঙ্গল সাহিত্যে মুসলমানের অবদান ২৩ তাহারা স্বর্গে যায়।” যদি স্বর্গে যাওয়ার পথ ইহাই হয়, তবে কেন তাহার তাহাদের বাপ, মা, ভগিনীদিগকে সেই উত্তম পথে-স্বর্গে পাঠাইয়া দেয় না ? সমস্ত মানুষের পা, উরু, নখ, পার্থ, পৃষ্ঠ প্রভৃতি অঙ্গগুলি এক রকম, কোনও কিছুতে একটুও প্রভেদ নাই। সেজন্ত চারটা আলাদা আলাদা শ্রেণী থাকিতে পারে না । ছেলের পথে খেলিতে খেলিতে খানিকটা ধূলা জড়ে। করিয়া রাখিয়া বলে—‘এই রহিল জল, এই দুধ, এই দই, এই মাংস, এই ঘি ইত্যাদি । কিন্তু তাই বলিয়া ধূলারাশি এই সকল জিনিষের কোন একটা হয় না। তেমনই ব্রাহ্মণ ইত্যাদি কতগুলি নাম মাত্র । তাহারা বিভিন্ন জিনিষ নহে । জন্তুদের মধ্যে গরু, ঘোড়। প্রভৃতির আকৃতি-গত প্রভেদ আছে, সেই জন্ত গরু একটা জাতি, ঘোড়া একটা জাতি এবং আর, আর জন্তু আর আর জাতি। তেমনই আম, জাম, খেজুর বিভিন্ন জাতের, কিন্তু ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়াদির মধ্যে আকারের তেমন কোন পার্থক্য না থাকায় উহার ভিন্ন জাতের হইতে পারে না।”* ডক্টর শহীদুল্লাহু সাহেব প্রমাণ করিয়াছেন, নাথধৰ্ম্ম—বৌদ্ধধৰ্ম্মেরই পরবর্তী সংস্করণ, কিন্তু ধৰ্ম্ম-পূজকগণ বৌদ্ধ ও হিন্দু উভয়ের মতের মিশ্রণে উৎপন্ন। সহজিয়ারা অবহু বৌদ্ধ-তন্ত্র আশ্রয় করিয়া প্রাচীন একাভিপ্লায়ী’ দলের রীতি রক্ষা করিয়া আসিয়াছিল। শেষকালে ইহারা সকলেই হিন্দু ভাবাপন্ন হইয়া পড়িয়াছিল। বৃহৎ সহজিয়া-সম্প্রদায়ের সঙ্গে নাথ-পন্থীদের মত এবং ধৰ্ম্মঠাকুরের পূজক রামাই-পণ্ডিতের পদ্ধতির অনেক বিষয়ে মিল আছে। কারণ ইহাদের সকলেই সেই ভূ-পতিত বৌদ্ধ-তরুর পুনরায় সমূদ্ভূত অঙ্কুর-সদৃশ । সুতরাং ইহাদের মধ্যে একটা জ্ঞাতিত্ব থাকিবেই। সহজিয়াদিগকে শেষে

  • রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধ, হরিজন পত্রিকা ১৩৪৯ সালের ২৯শে ভাঞ্জের বঙ্গবাণী’ পত্রিকায় উদ্ধত ।