পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


88 প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান সেরূপ কথা আভাসেও জানা যায় না । তাহাদের বহু পূর্বের মহীপালের সম্বন্ধে বাঙ্গল। গান আংশিকভাবে পাওয়া গিয়াছে এবং তাহাদের সমসাময়িক অথবা কিছু পূৰ্ব্বের গোপীচন্দ্রের গানও অজস্র পাওয়া যাইতেছে। লক্ষ্মণ সেনের সময় বাঙ্গালার ইতিহাসে অতি গুরুতর বিয়োগান্ত নাটকের অভিনয় হয়, রাজদণ্ড হিন্দুরাজার হাত হইতে খসিয়| ইসলামধৰ্ম্মী-রাজার হস্তে যাইয়া পড়ে । এতবড় ঘটনাতে প্রজাদের হৃদয়ে গুরুতর আঘাত লাগিবার কথা অথচ তাহার। তাঙ্গদের চিরাগত অভ্যাসানুযায়ী এই মৰ্ম্মস্তুদ ঘটনার অভিব্যক্তিস্বরূপ কোন গীতিক রচনা করে নাই। ইহার কারণ কি ? আমার মনে হয়, সেই রাজত্বের লোপে জনসাধারণের মনে তেমন আঘাত লাগে নাই ; সেন-রাজত্ব ধ্বংসে কাণোজিয়া ব্রাহ্মণ-বংশ এবং কতিপয় উচ্চ-শ্রেণীর লোকের মধ্যে অবশ্যই কতকট। পরিতাপের সৃষ্টি করিয়াছিল। কিন্তু ব্রাহ্মণ্য-অনুশাসনের ফলে এককালে যে, জনসাধারণ বৌদ্ধ ধম্মাবলম্বী ছিল, সেই অধঃপতিত ও অপাংক্তের প্রজামণ্ডলীর সঙ্গে রাজাদের অন্তরঙ্গত লুপ্ত হইয়া গিয়াছিল । এই বিপুল প্রজাশক্তি সেন-রাজাদের অনুকূলে ছিল বলিয়া বোধ হয় না। ইহার রাজ-দরবারে ঢুকিতে সাহস পাইত না—নাপিত, ধোপা, তেলি ৷ হইতে . ষ্টাড়ি, ডোম, চণ্ডাল পর্য্যন্ত একান্ত ঘৃণার সহিত বজ্জিত হইয়াছিল। ইহাদের সহিত সাহচৰ্য্য ত দূরের কথা, এই সকল শ্রেণীর কোন লোকের মুখ পৰ্য্যন্ত দেখিলে যাত্ৰ-ভঙ্গ হইত। ‘ছি ছি, ‘দূর দূর’ এই ছিল তাহীদের প্রতি সম্ভাষণের ভাষা। অথচ এই পৰ্য্যন্ত বঙ্গেশ্বরদের সিংহাসন ডোম ও অপরাপর তথাকথিত নিম্ন-শ্রেণীর প্রাণ-দেওয়া রাজভক্তি ও দুজ্জেয় সাহসের ফলে রক্ষা পাইয়া আসিয়াছিল। ‘ধৰ্ম্ম-মঙ্গল” কাব্যে ডোম-সৈন্তের রাজভক্তির যে দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, তাহার তুলনা