পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8や প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান স্বাধুনী ছিল মসলিনের স্তায় স্বক্ষ । দিদিমা ও জননীদের মুখে এই সকল রূপকথা শুনিয়। শিশুরা যে কত আনন্দ পাইত, তাহ বলিয়া শেষ করা যায় না। আমরা অতি শৈশবে রাজপুত্র, সদাগরের পুত্র, কোটালের পুত্র ও পল্লীর নরনারীর প্রেম-বিষয়ক বহু গল্প শুনিয়াছি, যাহার কিয়দংশ গ্রীম্‌ ভ্রাতৃদ্বয়ের কৃপায় ইংরাজী অনুবাদে পড়িতেছি । তাহার অনেকগুলির উৎপত্তি স্তান যে এই বঙ্গদেশ তাহ কি আমরা কোনকালে বুঝিতে চেষ্টা করিয়া থাকি ? ষোড়শ হইতে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে ক্রমে ক্রমে আমরা রূপকথা হারাষ্টয়া ফেলিয়াছি, কিন্তু একথাটা মনে রাখা উচিত যে, সহস্র কল্পন ও অলৌকিক ঘটনার সমাবেশ সত্ত্বেও সেই সকল রূপকথা-বর্ণিত বীরত্ব, সাধুতা ও ত্যাগের উপাদান জোগাইয়াছে—প্রধানতঃ গুপ্ত ও পাল-যুগ । যে সময় বাঙ্গালী-বণিক ধীরদপে দেশ-বিদেশে পর্য্যটন করিত, রাক্ষসদানবের মত দুর্জয় শক্রর সন্নিহিত হইত, কত রূপসী রাজকুমারী ও লাঞ্ছিত। রমণীকে খড়গহস্তে উদ্ধার করিত, বিশাল অরণ্যের flow go olfo (“Flesh to flesh and bone to bone' ) মন্ত্র পাঠ করিয়া মৃতের খণ্ডিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জোড়া দেওয়ার গৰ্ব্ব করিত—সখন অজ্ঞাত বিদেশের অচিহ্নিত পথে কত পরী-দানোর স্বপ্ন দেখিত এবং শত বিস্ত্র অতিক্রম করিয়া, অলৌকিক শক্তি-পম্পন্ন শত্রুর শিরচ্ছেদ-পূৰ্ব্বক প্রণয়িনীর পদে জীবন-অৰ্ঘ্য দান করিত,— অজান উৎকট দেশে, অমানিশার অন্ধকারে অজগর ও ব্যাঘ্র-সঙ্কুল বিপুল অরণ্যানীর ঘন-পত্রাচ্ছাদিত তরুশাখার ছায়ায় ছায়ায় ভূত প্রেতের কল্পনা করিত,—সেই সকল অনৈসৰ্গিক ও অবাস্তবতার রাজ্যেও আমরা সেই বীর-জগতের ছায়৷ দেখিতে পাই, যেখানে লোক আরাম চাহিত না, নিত্য নুতন জয়ের অভিযানে উন্মত্ত ছিল,