পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন বাঙ্গল সাহিত্যে মুসলমানের অবদান 8 S জনপদে বাঙ্গল ভাষা সম্পূর্ণরূপে অনাদৃত ও শিক্ষিত সম্প্রদায়ের উপেক্ষিত অবস্থায় ছিল । সেনের সাৰ্ব্বভৌম রাজচক্রবর্তী ছিলেন না, তাহাদের শাসন অপেক্ষাকৃত অল্প-পরিসর গণ্ডীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল । কাণোজিয়। ব্রাহ্মণগণের প্রাধান্ত ও বিধি ব্যবস্থ সেন-রাজাদের রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল । সেন-রাজাদের গণ্ডীর বাঠিরে বঙ্গভাষার মর্য্যাদ ক্ষুঃ হয় নাই। সেন-রাজাদের সেনাপতি হীরাবন্ত খ ত্রিপুরেশ্বরী মুন্দরীর হাতে লাঞ্ছিত ও পরাভূত হইয়; সেই পাৰ্ব্বত্য-রাজ্য জয়ের আশ ছাড়িয়। দিয়াছিলেন । ত্রিপুরার রাজদরবারে বাঙ্গল ভাষায় তাম্রশাসন মুদ্রিত হইত এবং এখন পর্য্যন্ত সমস্ত রাজকাৰ্য নিৰ্ব্বাচিত হইয়। আসিতেছে । এই ভাষার নাম সেখানে ছিল ‘মুভাষ।” । কোচবিহারে ও আসামে রাজদরবারের ভাষা ছিল বাঙ্গল । তথাকার রাজাদের সাহায্যে ও আদেশে বহু বাঙ্গল গ্রন্থ রচিত হইয়াছিল। আরাকানের রাজাদের ও ত্রিপুরেশ্বরগণের মধ্যে অধিকারের সীমানা লইয়। বহুকাল যুদ্ধ-বিগ্রহ চলিয়ছিল । কিন্তু উভয় রাজ্যের লিখিত ভাষা ছিল বঙ্গভাষা । যদিও সেন-রাজাদের প্রশংসা-সুচক কোন গীতিকাই পাওয়া যায় নাই, কিন্তু ত্রিপুর-রাজ ধন্তমাণিক্য ও তাহার রাজ্ঞী কমল দেবীর ( ১৪৬৩–১৪১৫ খৃঃ ) প্রশংসাসূচক অনেক গীতি বিরচিত হইয়াছিল ‘রাজমালাব' তাহ উল্লিখিত আছে । . এই সকল গীতি ছাগ-তন্তুর বাদ্যযন্ত্র সহকারে গীত হইত। ধন্ত মাণিক ত্রিহুত হইতে গায়ক ও নর্তক আনিয় তাহার প্রজাদের মধ্যে এ সকল গীতি নাচিয়া গাহিবার শিক্ষা দিয়াছিলেন । সেন-রাজত্বের অবসানে গৌড়ের পাঠান-রাজদরবারে বাঙ্গল! ভাষ! ধীরে ধীরে স্বীয় প্রতিষ্ঠা পুনরায় স্থাপন করিতে সুবিধা পাইল । ইহাদের প্রায় সকলেই বঙ্গভাষার উৎসাহ-বৰ্দ্ধক ও অমুরাগী ছিলেন। কোন 8 —