পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


१२ প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান মৃজ হুসেন আলি ৫ ও গোলমাহমুদ প্রভৃতি মুসলমান কবিরা অনেক শাক্ত-সঙ্গীত প্রণয়ন করিয়াছেন। তাহ ছাড়া বেহুলার ভাসানের গায়ক ও কবি মুসলমানদের মধ্যে অনেক ছিলেন। শত শত বাউল ও মুরশিদ গানে বঙ্গের পল্লীগুলি মুখরিত, তাহাদের অধ্যাত্ম-সম্পদ বঙ্গসাহিত্যের গৌরবেরর বস্তু। মাণিক পীর, কালু-গাজি ও চম্পা—সুন্দরবনের ব্যান্ত্রের দেবতার সঙ্গে কালু-গাজির যুদ্ধ, এই সমস্ত নানা কাব্য ও গানে পল্লী-সাহিত্য সমৃদ্ধ । সুতরাং বঙ্গসাহিত্যে র্তাহাদের প্রচুর অবদান উপেক্ষণীয় নহে। তাহদের ইতিহাস বাদ দিলে ভাবী বঙ্গ সাহিত্যের ইতিহাস একান্তভাবে পঙ্গু হইয়া পড়িবে। ডক্টর এনামুল হক্‌ লিখিয়াছেন—“পূৰ্ব্ববঙ্গের নানাস্থান চইতে বিশেষতঃ চট্টগ্রামের সর্বত্র আরাকান রাজ-সভাকবিদের পুস্তকের প্রাচীন পাণ্ডুলিপি আবিষ্কৃত হওয়াতে প্রমাণিত হইতেছে যে—পূৰ্ব্ববঙ্গে আরাকান রাজসভাকবিদের প্রভাব অক্ষুণ্ণ ছিল । এই যুগের কোন কোন কাব্যের পাণ্ডুলিপি হিন্দু লিপিকারের দ্বারা লিখিত। ইহাতে প্রমাণিত হয় যে, কাব্যগুলি হিন্দুদের নিকটও সমাদর লাভ করিয়াছিল।” * রোসাঙ্গের অপরাপর কবিদের কথা এখানে সংক্ষেপে বলিয়া যাইতেছি, আপনারা এনামুল হকের পুস্তকে তাহাদের বিস্তৃত পরিচয় পাইবেন। (১) কৰি মৰ্দ্দন-ইনি দৌলত কাজির সমসাময়িক এবং রাজা মুধৰ্ম্মার সময় (১৬২২-৩৮ খৃঃ) বিদ্যমান ছিলেন। ইহার রচিত পুস্তকের নাম সম্ভবতঃ ‘নছির নাম ।’ আশ্চর্য্যের বিষয় যে, এই সকল কাব্যে আমরা সুপরিচিত হিন্দু-কবিদের স্বরটি মাঝে মাঝে পাইতেছি। নছির নামা মাগন ঠাকুরের ‘চন্দ্রাবতী’র দ্যায় একটা প্রাচীন পল্লী-কাহিনী ভাঙ্গিয় রচিত।

  • *কহে মুজা হুসেন আলী, না করেন মা জয়কালী" * "অরি;কান রাজ সভায় বাঙ্গলা সাহিত্য ৬৮-৬৯ পু;