পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 প্রাচীন বাঙ্গল সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (৫) সৈয়দ মোহাম্মদ আকবর—জন্ম ১৬৭৭ খৃষ্টাব্দ। এনামুল হক লিখিয়াছেন—“মোহাম্মদ আকবর রচিত ‘জেবল মুলুক শামারোখ’ কাব্য বটতলায় ছাপা হইয়া বাঙ্গালী মুসলমানের ঘরে ঘরে সমাদৃত হইতেছে। এই সুবৃহৎ কাব্য একটি পল্লী-কথা বিষয়ক।” সেই চিরশ্রত, সনাতন কাল হইতে যাহা কবিরা আশ্রয় করিয়াছেম—-প্রেম । ছাপার পুথিতে ইহার পত্র সংখ্যা ১৬৮ কবি র্তাহার ষোড়শ বর্ষ বযংক্রমে এই কাব্য রচনা করিয়াছিলেন। (৬) মোহাম্মদ রাজা—ইহার দুইখানি কাব্য “মিছরি জামাল’ ও ‘তমিম গোলাল’—দুইটিই প্রেম-কাহিণী । শেষোক্ত পুস্তক বটতল: হইতে ছাপা হইয়াছে। স্থানে স্তানে বর্ণনার আতিশয্যে আরব্য উপন্যাসের রাজ্যকেও ছাপাইয় যায়। কোন ক্রুদ্ধ। রাজ্ঞীর বর্ণনা এইরূপ— “রাণীর আকৃতি দেখি বিদৱে পরাণ, লাকের সোয়াস যেন বৈশাখী তুফাল । চরণ ঝাপটে মাটি উঠে উৰ্দ্ধ মুখে। দশ মোণ সোনার নখ সে নারীর নাকে । আশী গজ শাড়ী রাণী কোমরে পিন্ধিয়া, বিশ মোণ রূপার হাসলি গলে দিয়া ।” এই বর্ণনা পড়িয়া পাঠকের হৃদয়ে যে আতঙ্কের সৃষ্টি হইবে, তাহা আর বলিতে হইবে না । এই প্রসঙ্গে ভারতচন্দ্রের বীরসিংহ রাজার রাজ্ঞীর ক্রোধাভিনয় মনে পড়ে— “কোপে রাণী ধায় রড়ে, আঁচল ধরায় পড়ে, আলু থালু কবরী বন্ধন চক্ষু ঘোরে যেন পাক, হাত নাড়া ঘন ডাক চমকে সকলে পূৰ্ব্বজন ।