পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৭৬ প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান মুসলমান পাঠকদের কাছে আদর লাভ করিয়াছে। কিন্তু তিনি যদি আর কিছু না লিখিতেন—মাতৃভাষা-বিদ্বেষীদের প্রতি তিনি যে তীব্র কটাক্ষ করিয়াছেন এবং আমি যাহা এই বক্তৃতার সর্বপ্রথমে উদ্ধত করিয়াছি – সেই কয়েকটি শ্লেষাত্মক-চরণের জন্ত আমরা আজ র্তাহাকে আলিঙ্গন দিতাম, যদিও তাহার কঠোর ভাষা আমরা কখনই অনুমোদন করি না । রোসাঙ্গের সংশ্লিষ্ট এই সকল কবি ছাড়াও বহু মুসলমান কবি বাঙ্গল ভাষায় কাব্য লিখিয়াছেন। সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতাব্দীতে র্তাহার ফারসী সাহিত্যের মোহিনীতে মশগুল ছিলেন, তাহারা সেই সকল বিদেশী ভাণ্ডার হইতে অপৰ্য্যাপ্তভাবে উপাদান সংগ্ৰহ করিয়াছেন। ইহাদের মধ্যে অনেকেই বিশুদ্ধ বাঙ্গল ভাষার মর্য্যাদা হানি করেন নাই, কিন্তু তাহর অতিরিক্ত মাত্রায় উর্দ শব্দ দ্বার। মাতৃ-ভাষা কণ্টকিত করিয়াছেন। র্তাহীদের কাহারও কাহারও কবিত্ব থাকিলেও কবিতা কাননের সেই সকল পদ্ম-কাটার ভয়ে কেহ কুড়াইতে পারিতেছেন না। সেই বিকৃতসাহিত্য বিভীষিকার স্মৃষ্টি করিয়া পঞ্জিকার জরামুরের মুৰ্বির মত এক স্বতন্ত্র স্থানে থাকিবে, তাহা বাঙ্গালার সর্বসাধারণ গ্রহণ করিবেন না । বটতলার বিস্তর কাহিনীমূলক মুসলমান কৃত কাব্য-গ্রন্থের মধ্যে কয়েক খানির মাত্র নাম এখানে উল্লেখ করিব – ১। চন্দ্রাবলীর পথি’- মুন্সী মোহাম্মদ আবেদ বিরচিত, ১৫৫নং দরজিপাড়া মসজিদ বাড়ী ষ্ট্রীট, কলিকাত।। ২। 'মধুমালার কেচ্ছ,’—খোন্দকার জবেদ আলি রচিত, ১৫৫নং দরজিপাড। মসজিদ বাড়ী ষ্ট্রট, কলিকাতা। ৩ । ‘মালঞ্চ কন্যার কেচ্ছ'—মুন্সী আয়জুদিন রচিত, ৩৭৭নং চিৎপুর রোড, কলিকাতা ।