পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


് o প্রাচীন বাঙ্গল সাহিত্যে মুসলমানের অবদান অবসাদ ও ক্লাস্তির মহৌষধ স্বাভাবিকভাবে বন্ত-বীথির নীচে বসিয়া কৃষক নীলাকাশে যখন কোকিলের কুহুধবনি শুনিতে থাকে, তখন হৃদয় ছাপিয়া আনন্দোচ্ছাস বহিতে থাকে। তাহারা পাণ্ডিত্যের আস্বাদ পায় নাই। কেতাবী এলেম তাহাদের নাই। তাহারা যে আনন্দ নিজেদের গৃহে স্বষ্টি করিয়াছে, তাহ হইতে তাহাদিগকে বঞ্চিত করিলে, তাহার সম্পূর্ণরূপে শক্তিহীন হইয়া পড়িবে, হয়ত বা তাড়ির দোকানে ঢুকিবে । হিন্দুগ্ৰহ হইতে তাড়িত হইয়াও এই পল্পী-সাহিতা এতকাল প্রধানতঃ মুসলমানের জীয়াইয়। রাখিয়াছেন ; আজ সেই পল্লী-বাহিনী সুরধুনী ক্রমশঃ সঙ্কীর্ণ ও শুষ্ক হইয়। অসিতেছে। এই পল্লী-সাহিত্যের বিস্তারিত ংবাদ দিতে হইলে আমাকে ওয়েবষ্টারের অভিধানের মত সুবৃহৎ বহুখণ্ড পুস্তক লিখিতে হয়। এই সাহিত্যের নানাদিক হইতে বিচার করিলে দেখা যাইবে যে, তাহা শিক্ষিত ও অশিক্ষিত সৰ্ব্ব-সম্প্রদায়ের অতীব উপভোগ্য। শুধু তাহাই নহে, এই নিরক্ষর চাষীদের সাহিত্য এত বড় যে, তাহার চূড় বড় বড় শিক্ষিত কবিদের মাথা ছাপাইয়া উঠিয়াছে। আমি লিখিয়াছি, পশ্চিম-বঙ্গের লোকদের মধ্যে অনেকেই এই সাহিত্যের গুণে ও অপরাজেয় কাব্য-সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ। কিন্তু তাহাদের মধ্যে কেহ কেহ আমার প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষের জন্ত, কেহ কেহ বা পূৰ্ব্ববঙ্গের প্রতি বিরূপতার দরুণ এই সাহিত্যকে তাদৃশ আদর করেন নাই। বিদ্বিষ্ট ব্যক্তিদের কথা ছাড়িয়া দিলেও এই গীতি-সাহিত্যের ভাষা তাহদের নিকট কতকটা দুৰ্ব্বোধ ও শ্রুতিকঠোর। তজ্জন্য র্তাহারা সকলে ইহার রসাস্বাদের অধিকারী হইতে পারেন নাই। কিন্তু সাহেবের এই গাথাগুলির ইংরেজী অনুবাদ পড়িয়াছেন ; তাহার এই সাহিত্যের যতটা পক্ষপাতী হইয়াছেন তাহ আমাদের অতীব গৌরবের বিষয় ।