পাতা:প্রায়শ্চিত্ত ১৯২০ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রায়শ্চিত্ত X (t খাসাহেব, তোমার তো বেশ মজবুত শরীর, তুমি তো ফৌজের সিপাহি হতে পার । পাঠান। হুজুরের মেহেরবানি হলেই পারি। আমার বাপ-পিতামহ সকলেই তলোয়ার হাতে মরেছেন । কবি বলেন— বসন্ত রায় । ( হাসিয়া ) কবি যাই বলুন, আমার কাজ যদি না ও তবে তলোয়ার হাতে নিয়ে মরার শখ মিটতে পারে, কিন্তু সে তলোয়ার থাপ থেকে খোলবার সুযোগ হবে না । প্রজারা শাস্তিতে আছে– ভগবান করুন, আর লড়াইয়ের দরকার না হয়। বুড়ো হয়েছি, তলোয়ার ছেড়েছি, এখন তার বদলে আর-একজন আমার পাণিগ্রহণ করেছে । সেতারে ঝংকার পাঠান। ( ঘাড় নাড়িয়া ) হায় হায়, এমন অস্ত্র কি আছে! একটি বয়েত আছে– তলোয়ারে শক্রকে জয় করা যায়, কিন্তু সংগীতে শক্রকে মিত্র করা যায় । বসন্ত রায় । ( উৎসাহে উঠিয়া দাড়াইয়া ) কী বললে, খাসাহেব ! সংগীতে শক্রকে মিত্র করা যায় ! কী চমৎকার! তলোয়ার যে এমন ভয়ানক জিনিস, তাতেও শক্রর শক্রত্ব নাশ করা যায় না। কেমন করে বলব নাশ করা যায় ? রোগীকে বধ করে রোগ আরোগ্য করা, সে কেমনতরো আরোগ্য ? কিন্তু সংগীত যে এমন মৃদু জিনিস, তাতে শত্রু নাশ না করে ও শক্রত্ব নাশ করা যায়। এ কি সাধারণ কবিত্বের কথা ! বাঃ, কী তারিফ ! খাসাহেব, তোমাকে একবার রায়গড়ে যেতে হচ্ছে । আমি যশোর থেকে ফিরে গিয়েই আমার সাধ্যমত তোমার কিছু— পাঠান। আপনার পক্ষে যা কিছু আমার পক্ষে তাই ঢের। হুজুর, আপনার সেতার বাজানো আসে ? বসন্ত রায়। বাজানো আসে কেমন করে বলি ? তবে বাজাই বটে। [ সেতার-বাদন