পাতা:প্রায়শ্চিত্ত ১৯২০ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 প্রায়শ্চিত্ত বসন্ত রায় । না না, অত সহজে না । আমনি যে ফাকি দিয়ে হেসে তাড়াবে আমি তেমন পাত্র না । কেঁদে না তাড়ালে বুড়ো বিদায় হবে না। গোটা পনেরো নতুন গান আর একমাথা পুরোনো পাকা চুল এনেছি, সমস্ত নিকেশ না করে নড়ছি নে । বিভ। মিছে বড়াই কর কেন ? আধমাথা বৈ চুলই নেই ! বসন্ত রায় । (মাথায় হাত বুলাইয়া) ওরে, সে একদিন গেছে রে ভাই ! বললে বিশ্বাস করবি নে, বসন্ত রায়েরও মাথায় একেবারে মাথাভরা চুল ছিল। সেদিন কি আর এত রাস্তা পেরিয়ে তোদের থোশামোদ করতে আসতুম ? সেদিন একটা চুল পেকেছে কি, অমনি পাচটা রূপসী তোলবার জন্তে উমেদার হত। মনের আগ্রহে কাচা চুলস্থদ্ধ উজাড় করে দেবার জে৷ করত । সুরমা । দাদামশায়, টাকের আলোচনা পরে হবে, এখন বিভার একটা স্বা-হয় উপায় করে দাও । বসন্ত রায় । সেও কি আমাকে আবার বলতে হবে নাকি ? এতক্ষণ কী করছিলুম ? এই যে বুড়োটা রয়েছে, এ কি কোনো কাজেই লাগে না মনে করছ ? গান মলিন মুখে ফুটুক হাসি, জুড়াক দু নয়ন। মলিন বসন ছাড়ো সখী, পরো আভরণ । অশ্র-ধোয়া কাজলরেখা আবার চোখে দিক না-দেখা, শিথিল বেণী তুলুক বেঁধে কুসুমবন্ধন । বিভা। দাদামশায়, সত্যি তুমি বাবার কাছে কিছু বলেছ ? বসন্ত রায় । একটা-কিছু যে বলেছি তার সাক্ষী আমি থাকতে থাকতেই হাজির হবে।