কোন্ সূত্র ধরিয়া কার্য্যারম্ভ করিব, তাহার কিছু স্থির করিতে পারিলাম না।
আরও কিছুক্ষণ এইরূপ চিন্তা করিলাম। পরে মনে হইল, রুমালখানিতে যদি রজকের কোন চিহ্ন থাকে, তাহা হইলে সহজেই হত্যাকারীর সন্ধান পাওয়া যাইতে পারে। এইরূপ উপায়ে অনেকবার সফল হইয়াছি ভাবিয়া আমি সত্বর পকেট হইতে রুমালখানি বাহির করিয়া খুলিয়া ফেলিলাম। পরে ভাল করিয়া চারিদিক পরীক্ষা করিলাম, কিন্তু কোন দাগ দেখিতে পাইলাম না। রুমাল খানি যে একবারও রজকগৃহে প্রেরিত হয় নাই, তাহা বুঝিতে পারিলাম। সুতরাং উহাদ্বারা কোন উপকার হইল না।
রামচন্দ্রের সেই ঘরের মেঝে দেখিয়া বোধ হইল, গতরাত্রে তিনজন লোক ঐ ঘরের ভিতর ছিল। আমি বিশেষ লক্ষ্য করিয়া তিনজনের পায়ের দাগ দেখিয়াছিলাম। রামচন্দ্রের মুখে শুনিলাম, সে বাড়ীতে ছিল না; তাহার পুত্র ও ছোট স্ত্রী তাহার সঙ্গে গিয়াছিল। কালী একাই বাড়ীতে ছিল। নিশ্চয়ই সে তাহার অবকাশ সময় ঘরের ভিতরে ছিল। ঘরের মেঝেয় কেবল তাহার পায়ের দাগ থাকাই উচিত। আর দুইজনের পদচিহ্ন কেমন করিয়া আসিল? যে সকল লোক সে দিন ঘরের ভিতর গিরাছিল, তাহারা দ্বারের নিকটেই ছিল, অধিক দূরে যায় নাই। যে যে স্থানে অপর দাগ এগুলি দেখা গিয়াছিল, তাহারা কেহই ততদূর যায় নাই। সে দাগ গুলি যে, তাহাদের পায়ের নয়, তাহা নিশ্চয়। তবে দাগগুলি সে দিনের না হইয়া অপর কোন দিনের হইতে পারে। হয়ত তাহার পর হইতে ঘরের সে স্থানে আর কেহ যায় নাই। সেইজন্য দাগগুলি এখনও রহিয়াছে।