বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রেমের খেলা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/১৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৬
দারোগার দপ্তর, ১৯৭ সংখ্যা।

মুখ দিয়া কোন কথা বাহির হইল না। সে আমার মুখের দিকে হাঁ করিয়া চাহিয়া রহিল; বোধ হয় আমার কথা বিশ্বাস করিল না। আমি তখন পুনরায় বলিলাম, “কি বাপু, আমার কথা বুঝিতে পারিতেছ না? কোন লোক তোমার স্ত্রীকে অজ্ঞান করিয়া তাহার গলা টিপিয়া হত্যা করতঃ শেষে তাহার গলে রজ্জু বাঁধিয়া ঐরূপে ঝুলাইয়া রাখিয়া গিয়াছে।”

 রামচন্দ্র এবার বুঝিতে পারিল। সে জিজ্ঞাসা করিল, “কে এমন কাজ করিল হুজুর? আমিত কাহারও কোন অপরাধ করি নাই।”

 এই বলিতে বলিতে তাহার চক্ষুদ্বয় অশ্রুপূর্ণ হইয়া আসিল, “আবেগে কণ্ঠ রোধ হইল, সে নীরবে কাঁদিতে লাগিল দেখিয়া আমি বলিলাম, “কেন বাপু কাঁদিয়া সময় নষ্ট কর। যে জন্য তোমায় ডাকিয়াছি শোন। যে ঘরে লাস পাওয়া গিয়াছে, সে ঘরটী কে ব্যবহার করিত?”

 রামচন্দ্র জোড়হস্তে উত্তর করিল, আজ্ঞে সেটী কালীর ঘর; কালী আর আমি ছাড়া প্রায়ই সে ঘরে আর কেহ যাইত না।”

 আ। সম্প্রতি কোন লোক কি সে ঘরে গিয়াছিল?

 রা। হয়ত আমার ছোট স্ত্রী দুঃখী কিম্বা আমার পুত্র পঞ্চানন গিয়া থাকিবে। এই দুইজন ভিন্ন আর কোন লোক প্রায় মাসাবধি আমার বাড়ীতে নাই। প্রায় দেড়মাস হইল, আমার ভগ্নী শ্বশুরবাড়ী গিয়াছে।

 আ। তোমার ভগ্নীপতি কি এখানে আসিয়াছিল?

 রা। অনেক দিন পূর্ব্বে তিনি মারা গিয়াছেন।

 আ। তবে তোমার বড় স্ত্রীর ঘরে অপর দুই জনের পদচিহ্ন