রা। আজ্ঞে হাঁ।
আ। তিনি দিদি বলেন কেন? তোমাদেরই স্বজাত না কি? দুঃখীর সহিত সত্য সত্যই কি কোন সম্বন্ধ আছে?
রামচন্দ্র ঈষৎ হাসিল। পরে বলিল, আজ্ঞে না, মনমোহন বাবু যে কায়স্থ। দুঃখীই প্রথমে দাদা বলিয়া ডাকিত। এখন দেখিতেছি, তিনিও দিদি বলিয়া ডাকেন।
আ। তোমার স্ত্রীও দাদা বলে?
রামচন্দ্র হাসিয়া বলিল, “আজ্ঞে হাঁ।”
আমি তখন জিজ্ঞাসা করিলাম, “আর একজন কে?”
রামচন্দ্র বলিল, “আমাদেরই দোকানের পার্শ্বে সে থাকে। আজ তখন সেও আপনার সম্মুখেই দাঁড়াইয়াছিল। তাহার নাম ঈশান।”
আ। বয়স কত?
রা। আজ্ঞে আমাদেরই মত। বেশীর ভাগ তাঁহার চুলগুলি পাকিয়া গিয়াছে, অর্দ্ধেকগুলি দাঁত পড়িয়া গিয়াছে।
আমি বলিলাম, “সে বোধ হয় তোমাদের স্বজাতি? কেমন?”
রা। আজ্ঞে হাঁ—কালীর দূর-সম্পর্কের মামা।
আ। তোমার ছোট স্ত্রীর স্বভাব-চরিত্র কেমন?
রা। যতদুর জানি, আর যেমন দেখিতে পাই, তাহাতে ভাল বলিয়াই বোধ হয়।
আ। কম্পাউণ্ডারের বয়স কাঁচা, তোমার ছোট স্ত্রীও পূর্ণ যুবতী। এ অবস্থায় উভয়ের মধ্যে আলাপ পরিচয় থাকা আদৌ সঙ্গত বলিয়া বোধ হয় না। তুমি তোমার স্ত্রীকে নিষেধ কর না। কেন?