পঞ্চম পরিচ্ছেদ।
পরদিন অতি প্রত্যূষ্যে গাত্রোত্থান করিলাম। আমি যখন প্রাতঃকৃত্য সমাধা করিয়া বিচক্ষণ বহুদর্শী ডাক্তারের ছদ্মবেশ ধারণ করিলাম, তখন উষার আলোকে চারিদিক উদ্ভাসিত হইয়াছিল। কাক কোকিলাদি বিহঙ্গমকুল স্ব স্ব নীড় ত্যাগ করিয়া আহারান্বেষণে ব্যাপৃত হইয়াছিল, গৃহস্থগণ স্ব স্ব শয্যা ত্যাগ করিয়া গৃহকর্ম্মে নিযুক্ত হইতেছিল।
অনেক ভাবিয়া চিন্তিয়া অবশেষে ডাক্তারের বেশেই কম্পাউণ্ডার বাবুর সহিত সাক্ষাৎ করিতে মনস্থ করিলাম। কিন্তু লোকাচার আকার-প্রকার ও ভাবভঙ্গী দেখিয়া সশস্ত্র হইয়া যাইতে বাধ্য হইলাম। একটা দোনলা পিস্তল ও একখানা ছোড়া সঙ্গে লইলাম, কিন্তু এমন ভাবে রাখিলাম, যাহাতে কম্পাউণ্ডার বাবু কোনরূপ সন্দেহ করিতে না পারেন।
আমার এক বন্ধু বড় ডাক্তার। তাঁহার নিকট হইতে গোটাকতক ডাক্তারি যন্ত্র আনাইয়া সঙ্গে রাখিয়াছিলাম। কোচমানকে রীতিমত শিক্ষা দিয়া আমি গাড়ীতে উঠিলাম। সে শকট চালনা করিল।
গাড়ীখানি যেমন সেই ডিস্পেন্সারির সম্মুখে গিয়া পঁহুছিল, অমনি উহার একটি ঘোড়া টলিয়া পড়িল। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ীখানিও হেলিয়া পড়িল। আমি ও কোচমান লম্ফ দিয়া নিম্নে অবতরণ করিয়া গাড়ীখানি ধরিয়া ফেলিলাম। উহা আার পড়িয়া