বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রেমের খেলা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/২১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
প্রেমের খেলা।
২১

গেল না বটে কিন্তু সম্মুখের একখানি চাকার চতুঃপার্শ্বস্থ লৌহনির্ম্মিত বেড়খানি খুলিয়া গেল। অশ্বরজ্জু গাড়ীর একস্থানে বন্ধন করিয়া কোচমান একজন মিস্ত্রী ডাকিয়া আনিতে ছুটিল। আমি সেইখানে দাঁড়াইয়া রহিলাম।

 গাড়ীখানির ঐরূপ অবস্থা হওয়ায় সেইস্থানে অনেক লোকের জনতা হইয়াছিল। বলা বাহুল্য যে, কম্পাউণ্ডারও আমার গাড়ীখানি পড়িতে পড়িতে রক্ষা পাইল দেখিবার জন্য ডিস্পেন্সারি হইতে বাহির হইয়াছিলেন।

 কোচমান মিস্ত্রী আনিতে চলিয়া গেল, অপরাপর লোকেরাও স্ব স্ব কার্য্যে গমন করিল। কম্পাউণ্ডার বাবু আমাকে দণ্ডায়মান দেখিয়া দয়া করিয়া ভিতরে ডাকিলেন। আমিও সহিসের হস্তে গাড়ীর তার দিয়া তাঁহার ডিস্পেন্সারিতে প্রবেশ করিলাম।

 দেখিতে যাহাই হউক, কম্পাউণ্ডারের আচরণ সে দিন অতি সুন্দর। ভিতরে যাইবা মাত্র তিনি শশব্যস্তে একখানি চেয়ার আনিয়া আমাকে বসিতে দিলেন। আমি উপবেশন করিলে পর তিনি একখানি ছোট ডিশে করিয়া আমার নিকট দুটো চুরুট ও দিয়াশলাই আনিয়া অতি বিনীতভাবে বলিলেন, “চুরুট ইচ্ছা করুন। মহাশয়কেও ডাক্তার বলিয়া বোধ হইতেছে।”

 যদিও আমি চুরুট ভক্ত নহি, তত্রাচ কম্পাউণ্ডার বাবুর মান রক্ষার জন্য সেই ডিস হইতে একটী লইয়া মুখে দিলাম এবং দিয়াশলাইয়ের সাহায্যে ধরাইয়া টানিতে লাগিলাম। তিনিও একটী লইয়া ধরাইলেন এবং আমার সম্মুখে একখানি চেয়ার আনাইয়া তাহাতে উপবেশন করিলেন।

 কিছুক্ষণ কোন কথা হইল না। পরে আমি