বাধা দিয়া কম্পাউণ্ডার বাবু বলিয়া উঠিলেন, “সহজ, ও কথা মুখেও আনিবেন না। অপরে বলে বলুক, যাহারা জানে না, তাহারা বলিতে পারে; কিন্তু আপনি বা আমি ওরূপ কথা মুখে আনিতে পারি না। আমাদের বাবু একবার একটা ফোড়া অস্ত্র করিতে গিয়া একটা শিরা কাটিয়া ফেলিয়াছিলেন; শেষে হারিস সাহেব আসিয়া তবে রোগীকে বাঁচান।”
আমি মনে মনে হাসিলাম। ভাবিলাম, ঔষধ ধরিয়াছে, এই যার কাজের কথা বলিতে আরম্ভ যাউক। এই চিন্তা করিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, “আপনার নাম কি? আপনার সহিত আলাপ করিয়া বড় সন্তুষ্ট হইলাম। আজ কাল বাহ্যিক অনেক ভদ্রলোক দেখিতে পাওয়া যায় কিন্তু প্রকৃত ভদ্রলোকের সংখ্যা নিতান্ত অল্প।”
কম্পাউণ্ডার বাবু ত মানুষ! তোষামোদ করিলে দেবতারাও বশীভূত হন। আমার মুখে প্রশংসা শুনিয়া তিনি পরম আপায়িত হইলেন। পরে হাসিতে হাসিতে উত্তর করিলেন, “আজ্ঞে আমার নাম মনমোহন।”
আ। আপনার বাবুর নাম কি?
ক। তারিণী প্রসাদ বোস এম, বি। “
আমি আশ্চর্য্যান্বিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, “সত্য না কি? এইটীই কি তারিণী বাবুর ডিসপেন্সারি? তাঁহার বাড়ীতেই ত ডিসপেন্সারি আছে?”
ক। আজ্ঞে হাঁ, এটী তিনি নূতন খুলিয়াছেন। এখানে তিনি প্রায়ই থাকেন না। বিশেষ প্রয়োজন হইলে আমি তাঁহার বাড়ীতে সংবাদ পাঠাইয়া থাকি।
আ। আপনি কতদিন কম্পাউণ্ডারি পাশ করিয়াছেন?